ফিক্সড ডিপোজিট অতীত: মিউচুয়াল ফান্ড ও এসআইপিতেই ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম

আমুদরিয়া নিউজ: টাকা জমিয়ে রাখতে ব্যাংক বা পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট (FD) কিংবা রেকারিং ডিপোজিটের (RD) মতো নিশ্চিত আয়ের সনাতন মাধ্যমগুলোই ছিল ভারতীয় মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ। কিন্তু বর্তমান একুশ শতকের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) এবং মিলেনিয়াল প্রজন্মের মানসিকতায় এসেছে এক আমূল পরিবর্তন। নিশ্চিত কিন্তু কম সুদের গ্যারান্টিড ফান্ডের মোহ কাটিয়ে নতুন প্রজন্ম এখন অনেক বেশি ঝুঁকছে মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) এবং সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-এর দিকে।

কেন এই পরিবর্তনের হাওয়া? আজকের তরুণ প্রজন্মের বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য কেবল টাকা বাঁচানো নয়, বরং মুদ্রাস্ফীতিকে (Inflation) হারিয়ে সম্পদ বৃদ্ধি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে এফডি-র সুদের হার যেখানে ৬ থেকে ৭ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদে ভালো মানের মিউচুয়াল ফান্ড অনায়াসে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি রিটার্ন দিচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির হার যদি ৬ শতাংশ হয়, তবে সনাতন সঞ্চয় মাধ্যমে কর দেওয়ার পর প্রকৃত লাভ বা ‘রিয়েল রিটার্ন’ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে যায়। নতুন প্রজন্ম এই গাণিতিক সত্যটি খুব দ্রুত বুঝে নিয়েছে।

নতুন প্রজন্মের কাছে এসআইপি-র জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এর ফ্লেক্সিবিলিটি। ফিক্সড ডিপোজিটের মতো এককালীন মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন এখানে নেই। প্রতি মাসে মাত্র ১০০ বা ৫০০ টাকা দিয়েও বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব। ‘টেক-স্যাভি’ তরুণরা এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই নিজেদের এসআইপি চালু করে ফেলছেন। প্রতি মাসে বেতন বা পকেটমানি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ হয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি তরুণদের নিয়মানুবর্তী হতে সাহায্য করছে।

তরুণ বয়সে বিনিয়োগ শুরু করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা পাওয়া। যত দীর্ঘ সময় ধরে মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা থাকবে, লাভের ওপর লাভের অঙ্ক ততটাই জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকবে। গ্যারান্টিড ফান্ডে যেখানে টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ হতে এক দশকের বেশি সময় লেগে যায়, সেখানে সঠিক মিউচুয়াল ফান্ডে অল্প টাকাও দীর্ঘমেয়াদে বিশাল কর্পাস বা বড় অঙ্কের তহবিলে পরিণত হতে পারে।

অবশ্যই মিউচুয়াল ফান্ড বাজারগত ঝুঁকির অধীন। ফিক্সড ডিপোজিটের মতো এখানে রিটার্নের কোনো আইনি গ্যারান্টি থাকে না। শেয়ার বাজারের ওঠানামার ওপর ফান্ডের পারফরম্যান্স নির্ভর করে। তবে নতুন প্রজন্ম এই ঝুঁকি সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা ফিন্যান্সিয়াল ইনফ্লুয়েন্সার, ইউটিউব এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্থিক শিক্ষা লাভ করছে। বাজারের পতন বা ‘মার্কেট ক্র্যাশ’-কে তারা ভয় না পেয়ে বরং সস্তায় ফান্ডের ইউনিট কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

Total Views: 0
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *