আমুদরিয়া নিউজ : স্নাতক পর্যায়ের ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট ২০২৬ (NEET-UG 2026)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (FAIMA) ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র আমূল সংস্কার এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাটি ফের আয়োজনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। বিষয়টি এখনও শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়নি। আইনজীবী তন্বী দুবের মাধ্যমে আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে।
এই ঘটনার তদন্তে আরও তিনজনকে সিবিআই ধরেছে। তাঁদের মধ্যে দুভাই একযোগে ধরা পড়েছে। তাঁদের একজন বিজেপি যুব নেতা বলে পরিচিতি। তৃতীয় জন নাসিকের এক ছাত্র। শুভম। এই শুভম ১০ লক্ষ টাকায় প্রশ্নপত্র কিনে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছে। সিবিআি তদন্তে নামতেই সে চুল কাটিয়ে চেহারা পাল্টে ফেলে। কিন্তু ডিজিটাল ট্রাকিং করে একটি মন্দিরের সামনে থেকে তাকে সিবিআই ধরেছে।
শুভম পুনের এক সন্দেহভাজনের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনে পরে ৫ লক্ষ টাকা লাভে বিক্রি করেছে। শুভম নাসিকের ইন্দিরানগর এলাকার ৩০ বছর বয়সী বাসিন্দা, ব্যাচেলর অফ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (BAMS)-এর ছাত্র। তার বাবা মধুকর খৈরনার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এদিনই নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজস্থানে দুই ভাই গ্রেপ্তার হয়েছে। যার মধ্যে স্থানীয় বিজেপি যুব শাখার নেতাও রয়েছেন। দীনেশ বিওয়াল ও মাঙ্গিলাল বিওয়াল। এদের পরিবারের চারজন ডাক্তারি পড়ছে। গত বছরই চান্স পায়। দুজন সরকারি মেডিকেল কলেজে। দুজন প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়ছে। এ বছর দীনেশের ছেলে নিট দেয়। সে ফেরার।
এসওজি-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীনেশ বিওয়াল ও তার ভাই ১৫ লক্ষ টাকায় নিট-এর গেস পেপার কিনেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে তারা সেটি সিকার এলাকার বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর কাছে বিক্রি করেছিলেন।
এরা কিনেছিল হরিয়ানার যশ যাদব নামে একজনের কাছ থেকে।
দীনেশের দুই ভাইয়ের চার ছেলেমেয়ে গত বছর নিট পরীক্ষায় পাস করেছে। তাদের মধ্যে দুজন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং বাকি দুজন একটি বেসরকারি কলেজে ডাক্তারি পড়ছে বলে তিনি জানান।
“দীনেশের নিজের ছেলে ঋষি, যে এ বছর নিট (NEET) পরীক্ষা দিয়েছিল, সে তার খুড়তুতো ভাই আমানের সাথে ফেরার।
কংগ্রেস ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) আক্রমণ করে বলেছে, সিবিআই-এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাইয়ের একজন, দীনেশ বিওয়াল, বছরের পর বছর ধরে বিজেপির যুব শাখার একজন সক্রিয় পদাধিকারী ছিলেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এক্স-এ একটি পোস্টে দীনেশকে স্থানীয় বিজেপি যুব শাখার নেতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
জামওয়া রামগড়ের এক স্থানীয় বিজেপি নেতা সংবাদ মাধ্যমে জানান, দীনেশ ২০১৪ সালে বিজেপির যুব শাখার সম্পাদক ছিলেন, কিন্তু দলে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। তিনি আরও জানান, দীনেশ ও মঙ্গিলাল দীর্ঘদিন ধরে মহাজনী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
দীনেশের ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২১ সালে রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক মহেন্দ্র পাল মীনার সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ছবি দেখা যায়। তিন দিন আগে, মীনাও ফেসবুকে দীনেশের একটি ছবি শেয়ার করে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
আশা করা যায়, যে বা যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকুক, সকলকেই সিবিআই ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
Leave a Comment