আদালতের চাপে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান! ফেব্রুয়ারিতেই ফিরতে পারে ১০০ দিনের কাজ

আমুদরিয়া নিউজ : দীর্ঘ টানাপড়েন ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প (মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএস)। সব ইঙ্গিতই বলছে, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠে নামতে পারে এই প্রকল্প। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের জন্য ‘লেবার বাজেট’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ জেলা প্রশাসনের হাত ঘুরে পৌঁছে গিয়েছে ব্লক স্তরেও।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সম্প্রতি প্রতিটি জেলার জেলাশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে দ্রুত লেবার বাজেট তৈরি করে রাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের (বিডিও) প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও প্রকল্প পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক আধিকারিক জানান, “নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী এবার প্রকল্পের ধরন ও নির্বাচন অনেক বেশি কড়া। আগের মতো সব ধরনের কাজ আর অনুমোদন পাবে না।”

কেন এতদিন বন্ধ ছিল ১০০ দিনের কাজ?

দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে নিয়মিতভাবে মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএস প্রকল্প চালু ছিল, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ ছিল এই প্রকল্প। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল দুর্নীতির, অন্যদিকে রাজ্যের দাবি—কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় চাপিয়ে গোটা রাজ্যের শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে একটি রাজ্যের উপভোক্তাদের এভাবে বাদ দেওয়া যায় না। তবুও দীর্ঘদিন ধরে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে গড়িমসি চলছিল। অবশেষে ১৬ জানুয়ারি রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের কমিশনারের চিঠিতে ফের কাজ শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রকল্প অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে—

  • ২১ জানুয়ারির মধ্যে পঞ্চায়েত স্তরে সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত

  • ২২ জানুয়ারি বিশেষ গ্রামসভায় সেই তালিকা অনুমোদন

  • ২৭ জানুয়ারির মধ্যে ব্লক স্তরে অনুমোদনের পর জেলায় পাঠানো

  • ৩০ জানুয়ারির মধ্যে জেলা থেকে রাজ্যে তালিকা পাঠানো বাধ্যতামূলক

  • ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্য স্তরে প্রকল্প নথিভুক্তির শেষ দিন

এই সময়সীমা মানা না হলে প্রকল্প অনুমোদনে সমস্যা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।

নতুন নিয়মে কী কী বদলাচ্ছে?

এবার প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে—

  • ২০ লক্ষ টাকার বেশি কোনও প্রকল্প অনুমোদনযোগ্য নয়

  • একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একসঙ্গে সর্বাধিক ১০টি প্রকল্প চলতে পারবে

  • জেলাশাসক বা জেলা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক

এছাড়া স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করে না—এমন কাজ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুকুর খনন, সেচখাল সংস্কার বা মাটি কাটার মতো কাজ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এ অন্তর্ভুক্ত করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাজ্যে ফের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প চালুর প্রস্তুতি শুরু হলেও এবার প্রশাসনিক নজরদারি যে অনেক বেশি কড়া, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, এই নিয়মকানুনের জটিলতা পেরিয়ে গ্রামবাংলার শ্রমিকরা কত দ্রুত কাজের সুযোগ পান।

Total Views: 0
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *