মাধ্যমিক চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বিতর্ক, স্কুল পরিদর্শককে মারধর

আমুদরিয়া নিউজ : মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর সময়ে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের আঝাপুর হাইস্কুলে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন বেজে ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই স্কুল পরিদর্শককে মারধরের অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও গ্রুপ ডি কর্মী-সহ মোট সাত জন শিক্ষককে সাসপেন্ড করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদের বিধি অনুযায়ী, মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে শুধুমাত্র সেন্টার সচিব, ভেন্যু সুপারভাইজার ও নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু মঙ্গলবার ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে একটি মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। বিষয়টি নজরে আসতেই পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ প্রশ্ন তোলেন—কীভাবে মোবাইল ফোন পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকল। অভিযোগ, সেই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর না দিয়ে সাত–আট জন শিক্ষক একযোগে তাঁর উপর চড়াও হন। বেধড়ক মারধরে আহত হন স্কুল পরিদর্শক। তাঁকে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত স্কুলে পৌঁছয় মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা মনিটরিং কমিটি এবং বিতর্কিত মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। পর্ষদের নিযুক্ত জেলা আহ্বায়ক অমিত কুমার ঘোষ জানান, ভেন্যু সুপারভাইজার ও ইনচার্জের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পর্ষদে জমা পড়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক দেবব্রত পাল জানান, প্রধান শিক্ষক, এক জন ক্লার্ক ও গ্রুপ ডি কর্মী-সহ মোট আট জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছে। অভিভাবক মহলেও তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। এখন পর্ষদের কড়া নজরদারিতে আঝাপুর হাইস্কুলে বাকি পরীক্ষাগুলি কীভাবে নির্বিঘ্নে নেওয়া হবে, সেদিকেই নজর।

Total Views: 0
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *