আমুদরিয়া নিউজ: লেখকের সৃজনশীলতা, সম্পাদকের দক্ষতা আর পাঠকের হাতে পৌঁছনো বই—প্রকাশনা জগতের এই পরিচিত ছবিতে দ্রুত ঢুকে পড়ছে AI। কিন্তু এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকার বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, লেখক ও কর্মীদের সঙ্গে যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় না রেখেই বইয়ের প্রচার, প্রচ্ছদ তৈরি এবং বিভিন্ন লেখালেখির কাজে AI ব্যবহার করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আমেরিকার তিনটি বড় প্রকাশনা তাদের কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে AI-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। দুই ডজনেরও বেশি কর্মীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাহিত্যিকদের এজেন্টদের ইমেল লেখা, বইয়ের প্রচারমূলক বিবরণ তৈরি, প্রচ্ছদের নকশা এবং বিপণনের কাজে AI ব্যবহারের নজির রয়েছে।
এই প্রবণতা নিয়ে প্রকাশনা কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকলে সম্পাদনা, অনুবাদ, প্রচার ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজে মানুষের ভূমিকা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রকাশিত না হওয়া পাণ্ডুলিপির লেখা AI ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হলে তার গোপনীয়তা ও কপিরাইট নিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রকাশনা শিল্পের একাংশের মতে, AI প্রযুক্তি অনুবাদ, বিপণন এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে সময় বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু তার ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ হবে এবং লেখক ও কর্মীদের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।