আমুদরিয়া নিউজ: মানুষ নিজেকে বিবর্তনের সেরা জীব মনে করলেও, সঠিক ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের কীটপতঙ্গদের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। গবেষকদের মতে, পিঁপড়ে, মৌমাছি বা তেলাপোকার মতো পোকাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া মানুষের বিভিন্ন বড় শিল্পে যেমন—পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকস বিভাগে অ্যালগরিদম তৈরিতে সাহায্য করছে।কীটপতঙ্গদের জগত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিচে দেওয়া হলো:
পিঁপড়ের অপ্টিমাইজেশন: পিঁপড়েরা যখন খাবারের সন্ধানে বের হয়, তখন তারা মাটিতে ফেরোমেন নামক রাসায়নিকের দাগ রেখে যায়। সবচেয়ে ছোট ও কার্যকরী পথ দিয়ে যে পিঁপড়েরা দ্রুত ফিরে আসে, তাদের রেখে যাওয়া দাগটি বেশি তীব্র হয়। বাকি দীর্ঘ পথগুলোর দাগ সময়ের সাথে মুছে যায়। এভাবেই কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পুরো দল সবচেয়ে সেরা পথটি বেছে নেয়।
মৌমাছির গণতন্ত্র: নতুন বাসার খোঁজ করতে বের হওয়া স্কাউট মৌমাছিরা ফিরে এসে এক বিশেষ নাচের মাধ্যমে বাকিদের স্থান, দূরত্ব ও নিরাপত্তার বার্তা দেয়। যে জায়গাটি যত ভালো, তার নাচ তত দীর্ঘ হয়। অধিকাংশ মৌমাছি একমত হলে তবেই পুরো দল সেখানে যায়।
ফড়িংয়ের নিরপেক্ষতা: হাঁটা ফড়িংরা যখন দলগতভাবে চলার দিক পরিবর্তন করতে চায়, তখন তারা ক্ষণিকের জন্য থমকে গিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, মানুষের ক্ষেত্রেও কোনো তর্কে নিরপেক্ষ বা বিরত থাকার বিকল্প থাকলে দলগত সিদ্ধান্ত অনেক দ্রুত ও পরিষ্কারভাবে নেওয়া সম্ভব হয়।
তেলাপোকার ব্যক্তিত্ব: গবেষণায় দেখা গেছে, সব তেলাপোকা একরকম আচরণ করলে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু দলে যখন সাহসী ও ভীতু—উভয় ধরণের ব্যক্তিত্বের তেলাপোকা থাকে, তখন তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ে এবং তারা অনেক দ্রুত দলবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।