তৃণমূলের দখল কার হাতে? কমিশনে মমতার নতুন কমিটি, পাল্টা দাবি ঋতব্রত শিবিরের

Two rival committees, one party — the battle for Trinamool's control enters a new phase.

আমুদরিয়া নিউজ : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই ক্রমশ নতুন মোড় নিচ্ছে। নিউটাউনের একটি হোটেলে সোমবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার দাবি করে। সেই বৈঠকেই দল প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে দাবি করা হয়। তবে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক চলাকালীনই কালীঘাটে পৃথকভাবে একটি নতুন ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করে তার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় নিজেকে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা অনুমোদিত নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সুব্রত বক্সী, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে শুভাশিষ চক্রবর্তীকে এবং রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। এছাড়াও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অমিত মিত্র, অসীমা পাত্র, মলয় ঘটক, গৌতম দেব, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বীরবাহা হাঁসদা, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, নাদিমুল হক, মদন মিত্র, মহুয়া মৈত্র ও কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতা।

অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের ঘোষিত কমিটিতে চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে। সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান আনসারিকে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মমতার নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন অরূপ বিশ্বাস। শুধু তিনিই নন, আগের কমিটিতে থাকা একাধিক প্রভাবশালী নেতার নামও নতুন তালিকায় নেই। ফলে দলের অভ্যন্তরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। দুই পক্ষই নিজেদের কমিটিকে বৈধ দাবি করায় কমিশন কাকে স্বীকৃতি দেয়, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি উঠলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই এখন এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও রাজনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *