আমুদরিয়া নিউজ: দিল্লির যন্তর মন্তরে শুক্রবার, গান্ধীজয়ন্তীর দিনে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ এই জমায়েতের অনুমতি দেয়নি এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সকাল থেকেই যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৫০০-র বেশি বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আম আম আদমি পার্টির নেত্রী আতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ এবং ছাত্র সংগঠনের নেতারাও ছিলেন।
বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে দিল্লির পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তর সংলগ্ন ১২টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি, যন্তর মন্তর ও আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির একাধিক রাস্তাতেও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন জারি করা হয়।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। ফলে আজকের বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রতিবাদের অধিকার—এই তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।