আমুদরিয়া নিউজ: ভারতে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর ঘিরে ‘ককরোচ’ আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্দোলনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অভিনেতা, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সমাবেশে হাজারো মানুষের জমায়েত হয়। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ, ভিডিও নির্মাতা ধ্রুব রাঠী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সমাবেশ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবি তোলা হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসআইআরের ফলে ভোটার তালিকায় অসংগতি তৈরি হয়েছে এবং বহু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজও ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্মসূচি ঘিরে বিপুল সংখ্যক আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ নিযুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তাও আরও বাড়ানো হয়েছে।
আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন লেখিকা অরুন্ধতী রায়, শিক্ষাবিদ জয়তী ঘোষ, তনিকা সরকার, নিভেদিতা মেনন, অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ-সহ একাধিক বিশিষ্ট নাগরিক। লাদাখের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও সংহতি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্দোলনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর তৎপরতাও বেড়েছে। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের আটকও করেছে পুলিশ। রাজঘাট এলাকায় জমায়েত ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে।
এখন নজর ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর কর্মসূচির দিকে। ওই দিনের জমায়েত এবং আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমর্থনের পরিমাণই অনেকটা স্পষ্ট করে দিতে পারে—‘ককরোচ’ আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে চলেছে।