এ কেমন মেয়র! নিজের আসন ছেড়ে সাংবাদিকদের সাথে একাসনে বসে নিজের দুর্বলতা বলে দিলেন ??

siligurimunicipalcorporationmayorgoutamdevadmitshiedestiny

কিশোর সাহা, আমুদরিয়া নিউজ : রাজ্যে বিধানসভা ভোটের খুব দেরি নেই। সব ঠিক থাকলে শিলিগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হতে পারেন মেয়র গৌতম দেব। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর মত বিনিময়ের জন্য একটি সভা ছিল। সেখানেই ঘটল এমন কাণ্ড!

আর পাঁচজন মেয়র বা জনপ্রতিনিধি যেমন লম্বা সেক্রেটারিয়েট টেবিলের ওপারে বসেন। উল্টোদিকে কিছুটা দূরে বসেন সাংবাদিকরা। এ পাশ থেকে প্রশ্ন গেলে ও দিক থেকে উত্তর দেন। এটাই তো রীতি!

কিন্তু, শিলিগুড়ি মেয়র গৌতম দেব সব হিসেব উল্টে দিয়ে বললেন, এভাবে হতে পারে না। তিনি নিজের আসন ছেড়ে উঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে একাসনে একই ধরনের চেয়ারে বসে পড়লেন। এবং মেয়র বলে দিলেন, এমন ওঁরা-আমরায় আমি বিশ্বাস করি না।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও শনিবার বিলে সাড়ে ৪টা নাগাদ এমনই দৃশ্য দেখা গেল শিলিগুড়ি হোটেল ডলি ইনে। যে ঘটনায় অভিভূত সেখানে উপস্থিত সব সাংবাদিকরা। শুধু তাই নয়, মেয়র গৌতম এভাবে নিজের চেয়ার ছেড়ে তাঁদের পাশে বসে কথাবার্তা বলছেন, খোলামেলা কথা বলছেন, রাখঢাক না রেখে নিজের দুর্বলতার কথা বলছেন তা শুনে কয়েকজন সাংবাদিক বলেই ফেললেন, মেয়র ধরাছোঁয়ার বাইরের মানুষ বলে তাঁরা যা শুনেছিলেন, সেটা একেবারেই ঠিক নয়, সেটা হাতে-কলমে বুঝলেন।

এখানেই শেষ নয়, এক সাংবাদিক তো তাঁদের পরিবারের দুঃসময়ে মেয়র কীভাবে সাহায্য করেছেন তা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন। চোখে জল দেখা গেল অনেক সাংবাদিকদেরই। তরুী সাংবাদিকটি যা বললেন, তাতে তাঁর পরিবারের একজনের প্রাণ বেঁচেছিল স্রেফ মেয়র গৌতম দেব চিকিৎসার ব্যবপারে সবরকম সহযোগিতা করায়।

আর কি বলেছেন মেয়র জানে!

মেয়র গৌতম দেব বলেছেন, এদিন মেয়র হিসেবে নয়, একজন শিলিগুড়ির নাগরিক হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মত বিনিময়ের চেষ্টা করেছেন তিনি। সেখানে তিনি বলেছেন, আমার অনেক দুর্বলতা রয়েছে, হঠাৎ কখনও আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের তো তাঁরও যে রাগ হতে পারে, মেজাজ খারাপ হতে পারে সেটাও স্বীকার করে বললেন, এটা কনট্রোল করার চেষ্টা করেই চলেছি। অনেক সময়ে ভুল হয়ে য়ায়। মন খারাপ হয়। অনেক সময় ভুলের জন্য মাসুল দিতে হয়। তিনি এটাও জানান, সে জন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন, হাতে সি (C) অক্ষরটি লিখে রাখতে, মানে কুল থাকার জন্য।

রাগ-অভিমান-ক্ষোভ-দুঃখ, ভুল-ভ্রান্তি নিয়েই তো মানুষ। গৌতম দেবও তাঁর ব্যতিক্রম নন। তিনি এটাও বললেন, শিলিগুড়ির মানুষ অতি মাত্রায় সচেতন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলে দিলেন, শিলিগুড়িতে ধর্মকে সামনে রেখে রাজনীতি, ভোট চাইতে গেলে মানুষ তা গ্রহণ করবেন না বলে তাঁর মনে হয়। শিলিগুড়িতে জাতপাত, ধর্ম নিয়ে গোলমাল কেউই পছন্দ করেন না বলে তিনি জানিয়ে দেন।

শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবের সম্পাদক অংশুমান চক্রবর্তী সেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁরা যখন যে কারও চিকিৎসা সহ নানা দুঃসময়ে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন, গৌতম দেব সবরকম সহযোগিতা করেছেন। তিনি জানান, কদিন আগেই এক সাংবাদিকের ক্যান্সার শুনে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করেছেন।

আরও আছে। আমুদরিয়া নিউজের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, শিলিগুড়িতে ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য শিলিগুড়ি পুর নিগমের পক্ষ থেকে একটা অ্যাফিলিয়েশনের ব্যবস্থা করা হোক। পুরসভা যেমন ট্রেড লাইসেন্স দেয়, তেমনই যাঁরা পুরোপুরি মিডিয়ায় কাজ করেন, যে সংস্থার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে, তাঁদের সংস্থার প্রতিনিধিদের পুরসভার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সমযের জন্য একটা পরিচয়পত্র দেওয়া হোক। প্রয়োজনে রিনিউয়ের ব্যবস্থা হোক।

এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে যদি আইনি সমস্যা না থাকে, তা হলে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র গৌতম দেব। তার পরে দেদার সেলফির জন্য পোজ দিয়েছেন। চা-চপ-মিষ্টি খেতে খেতে শুনেছেন নানা সমস্যার কথা।

সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে মেয়রের নিজের চেয়ার ছেড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একাসনে বসে আড্ডা দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

অতীতে কোনও মেয়র এমন করেছেন কি! আপনি কি বলেন!

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *