আমুদরিয়া নিউজ: মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাস যেন ফের উঠে এল জার্মানির ডর্টমুন্ডে। শহরের পশ্চিম প্রান্তে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে সন্ধান মিলেছে রোমান সাম্রাজ্যের সময়কার একটি অসাধারণভাবে সংরক্ষিত কর্মশালা এলাকা। খননকার্যে পাওয়া গিয়েছে ধাতু প্রক্রিয়াকরণের চুল্লি, আগুনের জায়গা, গর্ত এবং একটি মৃৎপাত্র তৈরির ভাঁটি।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এলাকাটি খ্রিস্টীয় প্রথম থেকে পঞ্চম শতকের একটি জার্মানিক বসতির অংশ। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখানে রোমানদের ব্যবহৃত ধাতব সামগ্রী গলিয়ে নতুন কাজে ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ, রোমান সাম্রাজ্যের সীমানার বাইরে বসবাসকারী জার্মানিক জনগোষ্ঠী বাণিজ্য বা অন্যভাবে পাওয়া রোমান ধাতব বস্তু পুনর্ব্যবহার করত।
খননে পাওয়া চুল্লিগুলি ছিল গোল বা ডিম্বাকৃতি, যার দেয়াল তৈরি হয়েছিল মাটি দিয়ে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ধাতব টুকরো পাত্রের মধ্যে রেখে চুল্লিতে গলানো হত। পাশের অংশ দিয়ে বায়ু ঢোকানোর জন্য ব্যবহার করা হত হাপর বা bellows। তবে সেই গলানো ধাতু দিয়ে ঠিক কী ধরনের নতুন সামগ্রী তৈরি করা হত, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এই আবিষ্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মৃৎশিল্প। প্রত্নতাত্ত্বিকরা ওই এলাকায় একটি মৃৎপাত্র তৈরির ভাঁটি পেয়েছেন—পশ্চিম জার্মানিক বসতি অঞ্চলে এই ধরনের ভাঁটির সন্ধানকে গবেষকরা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কোন ধরনের পাত্র সেখানে তৈরি হত, তা জানতে এখনও গবেষণা চলছে।
প্রায় ৮৫০ বর্গমিটার এলাকায় চলা এই খননকাজ শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের আগস্টে। ডর্টমুন্ডের প্রত্নতত্ত্ব দফতর এবং Landschaftsverband Westfalen-Lippe বা LWL-এর প্রত্নতাত্ত্বিক দল যৌথভাবে কাজ করছে। সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত একটি চুল্লি সম্পূর্ণ অবস্থায় তুলে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তা সাধারণ মানুষের সামনে প্রদর্শন করা যায়।
ইতিহাসের পাতায় এই আবিষ্কার তাই শুধু একটি পুরনো কর্মশালার সন্ধান নয়—রোমান সাম্রাজ্য ও তার বাইরের জার্মানিক সমাজের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সম্পদের পুনর্ব্যবহারের সম্পর্কের এক বিরল বাস্তব প্রমাণ।