আমুদরিয়া নিউজ: মানবদেহ এক পরম বিস্ময়কর এবং জটিল চালিকাশক্তি। প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরের ভেতরে এমন কিছু প্রক্রিয়া ঘটে চলেছে যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও অতীত। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে মানবদেহের এমনই কিছু চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য সামনে এসেছে, যা আমাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানুষের শরীরে প্রতি একক সেকেন্ডে ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি নতুন কোষ উৎপাদিত হয়। শুধু তাই নয়, মানবদেহের হৃদপিণ্ড এতটা শক্তিশালী চাপ তৈরি করতে পারে যে, সেই চাপে রক্তকে প্রায় ৯ মিটার বা প্রায় ৩০ ফুট উঁচুতে পাঠানো সম্ভব।তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও মানুষের মস্তিষ্ক যেকোনো আধুনিক কম্পিউটারকে টেক্কা দিতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্ক ৪ টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য নিজের মধ্যে সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
এছাড়া, আমাদের শরীরের ভেতরে ১ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীব বসবাস করে। তবে এই অণুজীবগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং এদের বেশিরভাগই মানুষের হজমপ্রক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
এই কোটি কোটি অণুজীবের পাশাপাশি আমাদের ত্বকে, বিশেষ করে মুখের লোমকূপ ও চোখের পাপড়ির গোড়ায়, ডেমোডেক্স মাইটস (Demodex mites) নামক এক ধরনের আণুবীক্ষণিক পোকা বাস করে। খালি চোখে দেখা না যাওয়া এই আট পায়ের ক্ষুদ্র জীবগুলো মূলত আমাদের ত্বকের মৃত কোষ এবং অতিরিক্ত তেল খেয়ে বেঁচে থাকে।
সাধারণত এরা আমাদের কোনো ক্ষতি করে না, বরং ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে; তবে এদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ত্বকে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, মানবদেহের এই অভ্যন্তরীণ জগতের এক বিরাট অংশ এখনো মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। এই বিস্ময়কর জগতকে পুরোপুরি উন্মোচন করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গবেষণা চলছে।
মানবদেহের অবিশ্বাস্য ৪টি বিস্ময়
Total Views:
0
Leave a Comment