আমুদরিয়া নিউজ: ভারতের আধুনিক নগরগুলোতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও, সমাজ ও প্রশাসন কীভাবে তাদের প্রান্তিক করে রাখছে তা আবারও প্রকাশ পেল দিল্লিতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। গত ২৬ এপ্রিল দিল্লির জাফরাপুর কালান গ্রামে পান্ডব কুমার (২১) নামে বিহারের খাগড়িয়ার এক ফুড ডেলিভারি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হেড কনস্টেবল নীরজ বালহারা, যিনি নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে খুব কাছ থেকে পান্ডবকে গুলি করেন।এফআইআর (FIR) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভোরে এক বন্ধুর সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন পান্ডব ও তার বন্ধুরা। সে সময় মদ্যপ অবস্থায় থাকা কনস্টেবল বালহারা তাদের পথ আটকে পরিচয় জানতে চান। তারা বিহারের বাসিন্দা শোনার পর সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “তোমরা বিহারিরা এখানে এসে পরিবেশ নষ্ট করছ, ঘরবাড়ি বানাচ্ছ। আজ আমি তোমাদের উচিত শিক্ষা দেব।” এর পরই তীব্র বচসার মাঝে সে পান্ডবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।এই ঘটনাটি কেবল একজন পুলিশ কর্মীর ব্যক্তিগত অপরাধ বা আক্রোশের প্রকাশ নয়; বরং এটি ভারতের বড় শহরগুলোর এক অন্ধকার বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। যে পরিযায়ী শ্রমিকদের সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করে দিল্লির মতো মেগাসিটিগুলো সচল থাকে, সেই শহরগুলোই তাদের ন্যূনতম মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। শহর গড়ে তোলার পেছনে যাদের সবচেয়ে বেশি অবদান, নাগরিক হিসেবে তাদেরই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে।