আমুদরিয়া নিউজ: ৫ সেপ্টেম্বর—শিক্ষক দিবস।
যে দিনে আমাদের জীবনের প্রথম অক্ষর শেখানো মানুষগুলোর কথা মনে পড়ে, সেই বিশেষ দিনেই কিন্তু আকাশের মেজাজটা থাকবে বেশ গম্ভীর। শরতের দরজায় কড়া নাড়লেও বর্ষা যেন এখনও বিদায় নিতে নারাজ। বাংলার আকাশে মেঘের আনাগোনা, কোথাও ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে শিক্ষক দিবসেও বৃষ্টির ছোঁয়া থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলছে না।
গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে এমনিতেই বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে জলমগ্ন পরিস্থিতি। তার উপর ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে একাধিক জেলায় তৈরি হয়েছে বন্যার আশঙ্কা। বহু জায়গায় এখনও জল নামেনি। এরই মধ্যে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস, ফলে উদ্বেগ বাড়ছে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে।
দক্ষিণবঙ্গে শিক্ষক দিবসে আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে। একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি, আবার কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। বিশেষ করে জলমগ্ন এলাকাগুলিতে নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই অকারণে নিচু এলাকা বা জল জমা রাস্তায় না বেরোনোর পরামর্শ থাকছে।
আর উত্তরবঙ্গ?
এখানে বর্ষার রূপটা যেন আরও একটু চেনা—পাহাড় থেকে সমতল, মেঘ আর বৃষ্টির খেলা চলবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাহাড়ে যাঁরা যাবেন, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
কালিম্পং, কোচবিহার, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শিক্ষক দিবসের এই দিনে একটা অন্যরকম ছবিও কিন্তু তৈরি হতে পারে।
একদিকে স্কুল-কলেজে শিক্ষককে সম্মান জানাতে প্রস্তুতি, ফুল হাতে ছাত্রছাত্রীরা; অন্যদিকে জানলার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটা। বাইরে যদি বৃষ্টি নামে, তবুও প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় যেন কোনও ভাটা না পড়ে।
৫ সেপ্টেম্বরের আকাশ হয়তো বলবে—
‘শরৎ আসছে ঠিকই, কিন্তু বর্ষার সঙ্গে আমার গল্পটা এখনও শেষ হয়নি।’
তাই শিক্ষক দিবসে বেরোনোর আগে একবার আবহাওয়ার আপডেট দেখে নিন, সঙ্গে রাখুন ছাতা বা রেইনকোট। আর যাঁরা জলমগ্ন বা নিচু এলাকায় রয়েছেন, তাঁরা প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলুন।
বৃষ্টি থাকুক আকাশে, আর শ্রদ্ধা থাকুক সেই মানুষগুলোর জন্য—যাঁরা আমাদের জীবনের অন্ধকারে প্রথম আলো জ্বালিয়েছিলেন।
শুভ শিক্ষক দিবস।