লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সাফল্যের পর ভারতের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে মহিলাদের সরাসরি নগদ ভাতা দেওয়ার প্রতিযোগিতা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা থেকে দিল্লি—ভোটের আগে মহিলাদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার। যুক্তি একটাই—ভোটার সন্তুষ্ট থাকলে সরকার টিকে থাকবে, তাতে কোষাগারের চাপ বাড়লেও ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ধারাবাহিক নগদ বণ্টন কি সত্যিই দারিদ্র্য দূরীকরণের পথ, না কি ভোটব্যাঙ্ক শক্ত করার কৌশল? অর্থনীতিবিদদের মতে, ভাতা স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিলেও তা কর্মসংস্থান বা উৎপাদনশীলতা বাড়ায় না। বরং দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষা এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দু’পক্ষই সতর্ক করেছে—মাত্রাতিরিক্ত খয়রাতি রাজ্যগুলিকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে। কাজের সুযোগ না বাড়িয়ে শুধু ভাতার উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হলে শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জনকল্যাণমূলক ব্যয় বৈধ হলেও শুধুমাত্র ভোটের উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থ বিলি হলে তা গুরুতর সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে। আদালতের মতে, কল্যাণ আর খয়রাতির মধ্যে যুক্তিসঙ্গত সীমারেখা থাকা জরুরি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার রাজনৈতিকভাবে সফল—তা নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু এই মডেল যদি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ভারত কি ধীরে ধীরে কল্যাণকর রাষ্ট্র থেকে ভাতা-নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে? এই প্রশ্নই এখন ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *