আমুদরিয়া নিউজ: সম্প্রতি নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে ১,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু ও পরিকাঠামো ধ্বংসের হৃদয়বিদারক দৃশ্য বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করেছে। এই পার্বত্য বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের দুই মেগাসিটি—কলকাতা এবং মুম্বইয়ের জন্য মহাপ্রলয়ের সাইরেন বাজাল রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN)।
সোমবার প্রকাশিত রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধির কারণে কলকাতা ও মুম্বইয়ের ১ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ চিরতরে ভিটেমাটি হারানোর “তাত্ক্ষণিক ঝুঁকিতে” রয়েছেন। ২০২৪ সালে মহাসাগরের নজিরবিহীন উষ্ণায়নের কারণে বৈশ্বিক জলস্তর বৃদ্ধির হার একলাফে রেকর্ড ৫.৯ মিলিমিটারে পৌঁছেছে।
পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, নেপালের পার্বত্য দুর্যোগ এবং ভারতের উপকূলীয় সংকট প্রকৃতির রুদ্ররূপের একই মুদ্রার দুই পিঠ।
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গে যেভাবে জলকাদা ঢুকে শ্রমিকরা আটকে পড়েছিলেন, কলকাতা-মুম্বইয়ের মাটির নিচের মেট্রো রেলের সুরঙ্গ ও ড্রেনেজ সিস্টেমও সমুদ্রের নোনা জলে একইভাবে অচল হওয়ার মুখে। মিয়ামি বা নিউ ইয়র্কের মতো ধনী শহরে জল বাড়লে আর্থিক সম্পদ নষ্ট হয়, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় মূল ট্র্যাজেডি হবে কোটি কোটি মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া। সমুদ্রের জল ঢুকে শহরের ভূগর্ভস্থ পানীয় জলকে নোনা করে দিচ্ছে, যা কৃষিকাজ ধ্বংসের পাশাপাশি ছড়াবে জলবাহিত মহামারী।
রাষ্ট্রপুঞ্জ সাফ জানিয়েছে, নেপালের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কলকাতা ও মুম্বইকে বাঁচাতে এখনই দীর্ঘমেয়াদী ‘অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান’, উপকূলীয় বাঁধ ও জলবায়ু প্রতিরোধী পরিকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। সময় ফুরিয়ে আসছে, প্রকৃতির এই চরম সতর্কবার্তাকে অগ্রাহ্য করার উপায় আর নেই।