আমুদরিয়া নিউজ : ১৯০৩ সালের এক জামাইষষ্ঠীর ভোজের ঘটনা তুলে ধরা হল, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শাশুড়ি দাক্ষায়ণী দেবী-র বাড়িতে স্নেহভরে আপ্যায়িত হন। নানা নিরামিষ পদের পর যখন ‘চৈ দিয়ে কৈ মাছ’ পরিবেশন করা হয়, তখন নিরামিষভোজী রবীন্দ্রনাথ প্রথমে তা খেতে অস্বীকার করেন। কিন্তু শাশুড়ির মন খারাপ দেখে শেষ পর্যন্ত মাছ খান এবং বলেন, এই রান্নার স্বাদ তাঁর প্রয়াত স্ত্রী মৃণালিনী দেবী-র রান্নার কথা মনে করিয়ে দেয়।
জামাইষষ্ঠীর প্রকৃত ইতিহাসে জানা যায়, মূলত এটি ছিল স্কন্দ ষষ্ঠী বা মা ষষ্ঠীর পূজা, যেখানে মায়েরা সন্তানের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ুর জন্য ব্রত পালন করতেন। বিবাহিত কন্যাদের বাপের বাড়িতে ডাকার রীতি থাকলেও তাঁদের সঙ্গে জামাইও আসতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জামাইরা এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন এবং ‘জামাতা নারায়ণ’-এর বিশেষ আপ্যায়নের প্রথা গড়ে ওঠে। ফলে আজকের জামাইষষ্ঠী মূলত জামাইদের সম্মান ও ভোজের উৎসব হিসেবে পরিচিত হলেও এর আসল উৎস সন্তানকল্যাণের উদ্দেশ্যে মা ষষ্ঠীর পূজায় নিহিত।