আমুদরিয়া নিউজ: বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক তক্ষশিলা জাদুঘরকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হল Heritage Walk ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে তক্ষশিলার প্রাচীন ইতিহাস, গান্ধার সভ্যতা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তক্ষশিলা শুধু একটি প্রত্নস্থল নয়—এটি বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনস্থল ছিল। UNESCO-র তথ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রত্নস্থলগুলির মধ্যে ভীর মাউন্ড, সিরকাপ ও সিরসুখ-সহ একাধিক প্রাচীন নগর ও বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে পরবর্তী কয়েক শতকে তক্ষশিলার নগরজীবনের বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলে এই অঞ্চল থেকে।
অনুষ্ঠানে তক্ষশিলা জাদুঘরের কিউরেটর জুবায়ের আখতার বলেন, তক্ষশিলার ঐতিহ্য শুধু একটি দেশের অতীত নয়; এটি বিশ্বের বহু সভ্যতার পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ইতিহাস বহন করে। ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল পর্যটন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
তক্ষশিলা জাদুঘরেও গান্ধার সভ্যতার বিপুল সংগ্রহ রয়েছে। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৭,০০০টি নিদর্শন প্রদর্শিত এবং আরও প্রায় ৩০,০০০টি নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে—যার মধ্যে ভাস্কর্য, স্তূপ, মুদ্রা, অলংকার, শিলালিপি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী রয়েছে। অতীতের ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করানো এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের বার্তাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।