আমুদরিয়া নিউজ: পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব চলাকালীন স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে ভারতের সিংহভাগ নারীই স্যানিটারি প্যাডের ওপর ভরসা করেন। তবে বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশ সচেতনতা এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার হাত ধরে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে ‘মেনস্ট্রুয়াল কাপ’ (Menstrual Cup)। তা সত্ত্বেও, ব্যবহারের প্রক্রিয়াটি শরীরের অভ্যন্তরীণ হওয়ায় অনেক ভারতীয় নারীর মনেই প্রশ্ন জাগে—এটি ব্যবহার করা কি সত্যিই নিরাপদ? স্যানিটারি প্যাডের চেয়ে এটি কেন এবং কতটা ভালো?
গাইনোকোলজিস্ট এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, মেনস্ট্রুয়াল কাপ ভারতীয় নারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এটি সাধারণত ১০০% মেডিকেল-গ্রেড সিলিকন দিয়ে তৈরি হয়, যা শরীরের ভেতরে কোনো রকম অ্যালার্জি, র্যাশ বা ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না।
প্যাড বনাম মেনস্ট্রুয়াল কাপ: কেন কাপ এগিয়ে?
স্যানিটারি প্যাড একটানা ৪-৬ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করলে বা রক্তে ভেজা প্যাড ত্বকের সংস্পর্শে থাকলে ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম নেয়। এর ফলে যৌনাঙ্গে চুলকানি, র্যাশ এবং রিপ্রোডাক্টিভ ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (RTI) হতে পারে । অন্যদিকে, মেনস্ট্রুয়াল কাপ রক্ত শোষণ করার বদলে তা ভেতরে জমা রাখে এবং সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসতে দেয় না। ফলে পিরিয়ডের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।
একটি ভালো মানের প্যাড সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু একটি মেনস্ট্রুয়াল কাপ ভারী ফ্লো থাকলেও একটানা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অনায়াসে ব্যবহার করা যায়।
ভারতের বাজারে একটি কাপের দাম ৩০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে একটিমাত্র কাপ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। যেখানে প্যাডের পেছনে প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়, সেখানে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
সাধারণ স্যানিটারি প্যাড প্লাস্টিক ও রাসায়নিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় তা নষ্ট হতে শত শত বছর সময় নেয় এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। মেনস্ট্রুয়াল কাপ পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এটি ৯৯% পর্যন্ত প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সাহায্য করে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও সামাজিক জড়তা
ভারতে মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহার এখনও অনেক কম (মাত্র ০.৩% এর কাছাকাছি)। এর প্রধান কারণ হলো সঠিক সচেতনতার অভাব এবং কুমারীত্ব হারানোর মতো অমূলক কুসংস্কার। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, প্রথম প্রথম এটি শরীরে প্রবেশ করানো এবং বের করার প্রক্রিয়াটি কিছুটা কঠিন বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। এছাড়া, কাপটি ব্যবহারের আগে এবং পিরিয়ড শেষে ফুটন্ত গরম জলে ভালো করে স্টেরিলাইজ বা জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
যারা দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকেন, চাকরিজীবী নারী বা ক্রীড়াবিদদের জন্য মেনস্ট্রুয়াল কাপ জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সঠিক নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে স্যানিটারি প্যাডের তুলনায় মেনস্ট্রুয়াল কাপ অনেক বেশি নিরাপদ, আরামদায়ক ও আধুনিক বিকল্প।