আমুদরিয়া নিউজ : কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাসিকের সময়ে বাধ্যতামূলক পিরিয়ড লিভ চালুর দাবি জানিয়ে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিল Supreme Court of India। শুক্রবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি Surya Kant গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের আইন বাধ্যতামূলক করা হলে উল্টে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রধান বিচারপতির মতে, মাসিকের জন্য আইনে বাধ্যতামূলক ছুটির বিধান করা হলে অনেক নিয়োগকর্তা মহিলাদের চাকরিতে নিতে অনীহা দেখাতে পারেন। এতে কর্মক্ষেত্রে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় কম সক্ষম। এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী Shailendra Mani Tripathi। আবেদনে তিনি দাবি করেন, কর্মরত মহিলাদের এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া মেয়েদের মাসিকের সময় নির্দিষ্ট ছুটি দেওয়ার নিয়ম চালু করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হোক। শুনানির সময় আদালত জানায়, মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসুবিধা দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে আইনি বাধ্যবাধকতা করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শুনানিতে Kerala–র উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সিনিয়র আইনজীবী M. R. Shamshad জানান, ২০১৩ সালে কেরল সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রীদের জন্য মাসিক ছুটি চালু করেছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী Pinarayi Vijayan একে লিঙ্গসমতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, এই ধরনের ব্যবস্থা স্বেচ্ছায় চালু করা আলাদা বিষয়, কিন্তু আইন করে বাধ্যতামূলক করলে তার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছিল, মাসিক স্বাস্থ্য মেয়েদের জীবন, মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদালত সরকারগুলিকে নির্দেশ দেয়—স্কুলে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া, আলাদা ও কার্যকর টয়লেটের ব্যবস্থা করা এবং মেনস্ট্রুয়াল হেলথ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে।
