এনআরসি নিয়ে আরও কড়া অসম, আবেদনের রিসিট নম্বর না থাকলে দেওয়া হবে না আধার কার্ড

আমুদরিয়া নিউজ ডেস্কঃ অসমে বসবাসকারী সমস্ত বাসিন্দাদের এনআরসির আওতায় নিয়ে আসতে এবার নয়া পন্থা নিল অসম সরকার। এবার থেকে এনআরসিতে আবেদন করার রিসিট নম্বর না দিলে আধার কার্ড না দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছে তারা।       অর্থাৎ আধার কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে এনআরসিতে আবেদন করা কার্যত বাধ্যতা মূলক করে দিল অসম। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা কার্যত হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, একটি SOP তৈরি করে দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে সেটি লাগু হবে। তাঁর কথায়, ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজ়েনস (NRC) অ্যাপ্লিকেশন রিসিট নম্বর জমা শুরু হলে বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। রাজ্য সরকার আধার কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া মনোভাব নিয়েই চলবে।’হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সন্দেহ, ‘জনসংখ্যার থেকে বেশি সংখ্যক আধার কার্ডের আবেদন জমা পড়েছে। এর থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন নাগরিক রয়েছে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নতুন করে আধার কার্ডের আবেদন করতে হলে আগে NRC-র আবেদনের রিসিট নম্বর (ARN) জমা করতে হবে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও জানিয়েছেন, অসমে এবার থেকে আর খুব সহজেই আধার কার্ড পাওয়া যাবে না। তিনি আশাবাদী তাঁর সরকারকে অনুকরণ করে অন্য রাজ্যগুলিও এই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটবে। তবে NRC প্রক্রিয়ার সময় অসমের যে ৯ লক্ষ ৫৫ হাজার নাগরিকের বায়োমেট্রিক লক হয়েছিল তাঁদের আর NRC অ্যাপ্লিকেশন নম্বর জমা করতে হবে না। তাঁরা সকলেই আধার কার্ড পেয়ে যাবেন। এ ছাড়াও চা বাগান এলাকাগুলিতেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হবে না। অনেকক্ষেত্রে সেই সমস্ত এলাকায় নানা সমস্যার কারণে বায়োমেট্রিক যন্ত্র পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকেরই বায়োমেট্রিক লক প্রক্রিয়া বাকি রয়ে গিয়েছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, অসমের চারটি জেলা  বরপেটা ১০৩.৭৪ ধুবরি ১০৩, মরিগাঁও ১০১ এবং নওগাঁ ১০১ শতাংশ অতিরিক্ত আধার কার্ডের আবেদন জমা পড়েছে। কোনও নাগরিককে আধার কার্ড দেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাজ্যগুলিকে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি অসমে তাঁদেরকেই একমাত্র আধার কার্ড দেওয়া হবে যাঁদের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবেন জেলা কমিশনার। যদি কোনও আবেদনকারীর কাছে NRC-র অ্যাপ্লিকেশন রিসিট নম্বর থাকে তাহলেই বুঝতে হবে তিনি ২০১৪ সালের আগে অসমে এসেছিলেন।’ তাঁর সংযোজন, ‘বিদেশি অনুপ্রেবশকারীদের চিহ্নিত করতে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। গত দু’মাসে অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রেবেশের চেষ্টা করেছে। অনেককে পাকড়াও করে বাংলাদেশ প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ নতুন করে এসে কেউই সীমান্তে বসবাস শুরু করলে তৎক্ষণাৎ সন্দেহভাজন সম্পর্কে প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গ্রামবাসীদের। সন্দেহভাজন এবং তাঁর পরিবারের পাসপোর্ট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে বলেও তিনিও কার্যত হুশিয়ারি দিয়েছেন।

Total Views: 0
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *