আমুদরিয়া নিউজ : অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও জোড়ালো হয়ে উঠছে। গতকাল দীঘার তালসারিতে একটি ধারাবাহিকে শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। এই খবর সামনে আসতেই বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করে। ইউনিটের কেউ বলছেন শুটিং শেষ করে তিনি একা সমুদ্রে নেমেছিলেন। অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, শ্যুটিং করার সময়ই সমুদ্রের গভীর গর্তে বা চোরাবালিতে পড়ে গিয়ে অভিনেতার মৃত্যু হয়। তাঁকে উদ্ধার করতে কেন দেড় ঘণ্টা সময় কেন লাগল এবং উদ্ধার করার সময় তিনি জীবিত ছিলেন কি না, তা নিয়েও একেকজনের বয়ান একেকরকম। এবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই সেই প্রশ্নগুলি আরও জোড়ালো হয়ে উঠছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিনেতার ফুসফুসে অস্বাভাবিক পরিমাণ বালি ও নোনা জল পাওয়া গিয়েছে, ফলে ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি খাদ্যনালিতেও বালি ও সমুদ্রের জল মিলেছে। চিকিৎসকদের মতে, স্বল্প সময় জলে থাকলে এমন অবস্থা হয় না। অর্থাৎ, তিনি দীর্ঘ সময় জলের নীচে ছিলেন, চিকিৎসকদের অনুমান সম্ভবত এই সময়টা এক ঘণ্টারও বেশি।
এই তথ্য ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি তাহলে মিথ্যে? দুর্ঘটনার পর দ্রুত অভিনেতাকে উদ্ধার করা হলে এই ঘটনা ঘটার কথা নয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাঁকে উদ্ধার করতে দেরি হয়েছিল নাকি তাঁকে খুঁজে পেতেই অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যায়? সত্যিটা আসলে কী?
সব মিলিয়ে, অভিনেতার মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক অসঙ্গতি সামনে চলে এসেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে ময়নাতদন্তের পর অভিনেতার দেহ তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।