আমুদরিয়া নিউজ : নির্বাচনে পরাজয়ের পর আবারও নিজের পুরনো পেশায় ফিরলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আইনজীবীর ভূমিকায় হাজির হয়ে সরব হলেন তিনি। কালীঘাটের বাড়ি থেকে আইনজীবীর পোশাকেই বের হন মমতা। পরে হাইকোর্টে পৌঁছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে সওয়াল করেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে তথা উত্তরপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় এদিন আদালতে বক্তব্য রাখেন মমতা। আদালতে তিনি জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি আইনজীবী এবং সেই পরিচয়েই সওয়াল করতে চান। আদালতে মমতা অভিযোগ করেন, ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। সংখ্যালঘু ও তফসিলি জাতির মানুষদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি তাঁকেও পুলিশের কাছে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার বিরোধিতা করে মমতা বলেন, “এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।” তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর যেভাবে শহরে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এটা বুলডোজার রাজ্য নয়।” সদ্য বিবাহিত এক তরুণীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আদালতে তুলে ধরেন মমতা। এদিন আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেন, খেজুরি ও ডোমজুড়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস, দোকান ও একাধিক সম্পত্তিতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি হগ মার্কেট এলাকায় ভাঙচুর এবং বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যে যাতে কোনও বুলডোজার অভিযান না চালানো হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।