আমুদরিয়া নিউজ : ভোট প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পোলিং কর্মীরা। ভোটের ডিউটির আগে তাই সরকারি কর্মচারীদের জন্য ট্রেনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবে, কীভাবে এই প্রশিক্ষণ হবে, এবার সেই সম্ভাব্য সময়সূচি ও পুরো প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
ভোটকেন্দ্রে প্রত্যেক কর্মীর আলাদা আলাদা দায়িত্ব থাকে। সেই অনুযায়ী তাঁদের ট্রেনিং দেওয়া হয়।
প্রিজাইডিং অফিসার এবং ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের হাতেই বুথের মূল দায়িত্ব থাকে। তাঁদের মোট তিনটি ধাপে ট্রেনিং দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসারদের ক্ষেত্রে ট্রেনিংয়ের সংখ্যা কিছুটা কম, তাঁদের জন্য রাখা হয় দুটি সেশন।
ভোটের কাজে ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) সঠিকভাবে ব্যবহার করা জানতে হয়। আর এজন্যই প্রিজাইডিং ও ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের জন্য ‘হ্যান্ডস-অন’ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট চালানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফর্ম পূরণের নিয়ম, সবকিছু হাতে-কলমে শেখানো হবে এখানে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল গ্রুপ ট্রেনিং, যাকে অনেকেই সাধারণভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ বলে থাকেন। এই পর্যায়ে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের ডিউটি ঠিক কোন বিধানসভা কেন্দ্রে পড়েছে। পাশাপাশি যাঁদের সঙ্গে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, সেই সহকর্মীদের সঙ্গেও তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
এর ফলে ভোটের দিন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় অনেক সহজ হয়ে যায় এবং পুরো প্রক্রিয়াটিই আরও সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
সম্ভাব্য প্রশিক্ষণ সূচি:
প্রথম পর্যায়ের ট্রেনিং: ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে প্রথম স্তরের পোলিং কর্মীদের জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে।
হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং: ৪ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রিজাইডিং অফিসার ও ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের জন্য বিশেষ হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ (হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং) অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্যায়ে ইভিএম পরিচালনা, ভোটগ্রহণের বাস্তব পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত গ্রুপ ট্রেনিং: প্রথম দফার পোলিং কর্মীদের জন্য চূড়ান্ত গ্রুপ ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হবে ১৬ এপ্রিলের আশেপাশে।
তবে এই সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তারিখে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই সরকারি কর্মচারীদের এই তালিকাকে প্রাথমিক ধরে রেখে নিজেদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বলা হচ্ছে।