আমুদরিয়া নিউজ : উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা কেন্দ্র থেকে দলের কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মোট ১৬ টি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে বিজেপি। আগামী শনিবার কলকাতার ব্রিগেডে মোদীর সভা। আর এই সভাকে কেন্দ্র করেই উত্তরবঙ্গে এই নজিরবিহীন প্রস্তুতি শুরু করল পদ্মশিবির।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রককে এই বিশেষ ট্রেনগুলির ভাড়া মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মালদা জেলা থেকেও থাকছে দুই জোড়া ট্রেন। আজ নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনগুলি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে এবং ১৪ মার্চ সভা শেষে সমর্থকদের নিয়ে ফিরে আসবে। কর্মীদের যাতায়াত এবং খাওয়া-দাওয়ার জন্য ঢালাও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও খবর।
বিজেপির এই এলাহি আয়োজন প্রকাশ্যে আসতেই কড়া সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধীরা। মালদার তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সীর অভিযোগ, “একদিকে ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ, অন্যদিকে বিজেপি বিপুল টাকা খরচ করে ট্রেন ভাড়া করছে। তৃণমূল যখন ট্রেন ভাড়া করতে যায় তখন পাওয়া যায় না।” একই অভিযোগ সিপিএম-এর মালদা জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রের গলাতেও। তিনি বলেন, “বিজেপি এখন আদানি-আম্বানির টাকায় চলা বড়লোকের পার্টি। এনআরসি বা সিএএ-র ভয় দেখিয়ে তারা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।”
অন্যদিকে, দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর প্রশ্ন, “শুনেছি একেকটি ট্রেনের ভাড়া প্রায় ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। এত টাকা ওরা কোথায় পাচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের উচিত এর তদারকি করা।”
যদিও বিরোধীদের অভিযোগে কান দিতে নারাজ মালদার বিজেপি নেতৃত্ব। দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমরা সাধারণ মানুষের জন্য ভাবছি। যাতে কোনো হয়রানি না হয়। যারা অভিযোগ করছে তারা কোনোদিন নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভাবেনি।”