আমুদরিয়া নিউজ : লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো নিঃশর্ত নগদ সহায়তা বা ‘ফ্রিবি’ প্রকল্পগুলি ভবিষ্যতে রাজ্য অর্থনীতিকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিল Economic Survey 2026। সমীক্ষার দাবি, এসব প্রকল্প চালাতে গিয়ে রাজ্যগুলোর পুঁজি খাতে বিনিয়োগ (পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য) ক্রমশ কমছে। ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে দেশে এই ধরনের প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই রাজ্যগুলোর অনেকেই ইতিমধ্যে রাজস্ব ঘাটতিতে ভুগছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, রাজ্য বাজেটের বড় অংশ এখন বেতন, পেনশন, সুদ, ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার মতো ‘কমিটেড এক্সপেন্ডিচার’-এ আটকে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমছে। যদিও স্বল্পমেয়াদে এই প্রকল্পগুলি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারকে সাহায্য করে, দীর্ঘদিন ধরে চললে তা কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আরও উদ্বেগের বিষয়, বহু প্রকল্পেই সানসেট ক্লজ বা এক্সিট মেকানিজম নেই, ফলে ভবিষ্যতে বাজেট পুনর্বিন্যাস কঠিন হয়ে উঠছে। Economic Survey স্পষ্ট করেছে, তারা কল্যাণমূলক ব্যয়ের বিরোধী নয়। তবে নিঃশর্ত নগদ সহায়তার বদলে শর্তসাপেক্ষ ও সময়বদ্ধ প্রকল্পই বেশি কার্যকর বলে মত সমীক্ষার। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আবহে এই খরচ বন্ধ করা কঠিন হয়ে উঠছে, আর তাতেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ফাঁদ—এমনই সতর্কবার্তা।