আসুন জেনে নিন তারেক রহমান সম্পর্কে কিছু তথ্য।
আমুদরিয়া নিউজ : এই মুহুর্তে বাংলাদেশের অন্যতম
প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। সেই দলের প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক
রহমান। এই প্রথম ভোটে নেতৃত্ব দিলেন। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেন।
ভোটের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পরে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হন। তাঁকে অনুগামী সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সমর্থকরা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী মনে করলেও বিরোধীদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ সামনে রাখা হয়েছে। বিশেষত তাঁর বিরুদ্ধে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়গুলো তোলা হয়েছিল। ভোটে তা তেমন গুরুত্ব পায়নি বলে বোঝা যাচ্ছে। কারণ, বিএনপি অভিযোগগুলোকে আওয়ামি লিগের প্রচার বলে পাল্টা দাবি করেছে।
এতদিন লণ্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। প্রায় দেড় বছর জেলে থাকার পরে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ছাড়া পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান তিনি।
প্রায় ১৭ বছর দেশছাড়া ছিলেন। গত বছর ২৫শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন। কয়েকদিনের মাথায় ৩০শে ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশদিন পরে ৯ই জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হন। তার স্ত্রী জুবেদা রহমান ও মেয়ে জায়মা জারনাজ রহমানও নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে হলেন তারেক রহমান। ১৯৬৫ সালের ২০শে নভেম্বর জন্ম। তবে ভোটের হলফনামায় বলা হয়েছে যে তিনি ১৯৬৮ সালের ২০শে নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন।
ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে পড়ার পরে আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। এবারের ভোটে যে হলফনামা তারেক রহমান জমা দিয়েছেন তাতে শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় আরও অনেক সামরিক কর্মকর্তা পরিবারের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বন্দি করা হয়েছিল। তখন তাদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমানও বন্দি ছিলেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিএনপির সেই শাসনকালে তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন হলে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। অভিযোগ, তারেক রহমান আড়াল থেকে ছড়ি ঘোরাতেন বলে অভিযোগ। বিএনপির শাসনের সময়ে ২০০৪ সালে ঢাকায় তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্যও তারেক রহমানকে দায়ী করা হয়। পরে আওয়ামি লিগের শাসনকালে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আওয়ামী লিগ সরকার ক্ষমতাচ্যূত হলে সব মামলা থেকে মুক্ত হয়েছেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের নির্বাচনী হলফনামায় মোট ৭৭টি মামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি তার বিরুদ্ধে তখনো থাকা সব মামলা থেকে খালাস কিংবা অব্যাহতি পেয়েছেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলের জোট সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে তুমুল রাজনৈতিক গোলমাল, হিংসার কারে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। তখন দুর্নীতির অভিযোগে দেড় বছর জেলে ছিলেন তারেক রহমান। তারেক রহমান লল্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। তা অনুমোদিত হয়।
২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যান। তখন চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকেই দল চালাতে থাকেন তারেক রহমান।
২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তখনই তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়ে যায়।
এখন বাংলাদেশে ভোট গণনা চলছে। সব ঠিক থাকলে বিএনপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তা হলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে তাঁর অনুগামীদের সংশয় নেই। সেটা হলে একই পরিবার থেকে তিনজন রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ার রেকর্ড হবে বাংলাদেশে।
বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও পরে রাষ্ট্রপতি। মা খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের ছেলেকে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিকে এগিয়ে দেন কি না সেটাই স্পষ্ট হবে কয়েক ঘণ্টা পরে।