কিশোর সাহা, আমুদরিয়া নিউজ : একদিনে একই অফিসে দুবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত।
সকালের দিকে দেখা করার সময়ে রাজু বিস্তের পরণে সুট-বুট-ব্লেজার।
বেলা ২টোর দিকে দ্বিতীয়বার দেখা করার সময়ে কুর্তা-পাজামা-মোদি স্টাইলের জ্যাকেট ও মোজা ছাড়া জুতো ছিল রাজু বিস্তের পরণে।
দ্বিতীয়বারের চমক হল তাঁর দুই সঙ্গী। একজন হলেন দার্জিলিঙের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিমল গুরুং ও তাঁর দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি।
ফলে, সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, আগামী বিধানসভা ভোটে বিমল-রোশন জুটি কি এবার বিজেপির হয়ে আসরে নামতে চলেছেন! গত বিধানসভা তো তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন বিমল-রোশনরা। এখন বিমলদের প্রভাব পাহাড়ে তেমন নেই। কিন্তু, গোর্খাল্যান্ডের দাবির কতা উটলেই বেশ শোরগোল পড়ে পাহাড়ে।
এদিন দু দফায় দুই ড্রেসে একবার একা ও আরেকবার দুই সঙ্গীকে নিয়ে সেই দাবিটাই উসকে দিয়েছেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ। বিল গুরুং, রোশন গিরিরা দেখা করার পরে য়ে প্রেস রিলিজ দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট লেখা য়ে তাঁরা পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি থেকে এখনও সরেননি। এবাং সেই দাবিই প্রথম। একান্ত তা না হলে কেন্দ্রশাসিকত অঞ্চলের স্বীকৃতি চান তাঁরা। যেভাবেই হোক দ্রুত দার্জিলিং সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চান তাঁরা। এসব লিখে তাঁরা স্মারকলিপি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
বস্তুত, পাহাড় সমতলের রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ মনে করছেন, ভোট আসতেই ফের গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সামনে রেখে সটান দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য বিমল গুরুং ও রোশন গিরিকে নিয়ে গিয়েছেন রাজু বিস্ত।
বিমল গুরুং-রোশন গিরিদের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্র যে মধ্যস্থকারী নিয়োগ করেছে পাহাড় সমস্যা সমাধানের জন্য, তাঁর কাছ থেকে রিপোর্ট পেলে প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেই সঙ্গে পাহাড়ের যে ১১টি জনজাতিকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
দার্জিলিঙের সাংসদ আসন্ন বিধানসভা ভোটে পাহাড় সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় তৃণমূলকে বেকায়দায় ফেলতে কতটা আদাজল খেয়ে লেগেছেন তা এখন রোজই স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। কিন্তু, বিমল-রোশনদের নিয়ে গোর্খাল্যান্ড অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি সামনে আনাটা আবার পাহাড় বাদে অন্য সব বিধানসভায় ব্যুমেরাং হবে না তো, সেই প্রশ্নেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।