আমুদরিয়া নিউজ : গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের সদর দপ্তরের ঠিকানা ছিল দিল্লির ২৪ আকবর রোড। কিন্তু গত বছরের জানুয়ারি মাসে কোটলা মার্গে কংগ্রেসের নতুন সদর দপ্তরের উদ্বোধন করেন সোনিয়া গান্ধী। সদর দপ্তর সরে গেলেও দলের বহু বর্ষীয়ান সদস্যের সঙ্গে ওই বাড়িটির একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এখনো সেখানে দলীয় কার্যকলাপ সংগঠিত হয় বলে খবর। এবার সরকারের তরফে কংগ্রেসকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী শনিবারের মধ্যে আকবর রোডের ওই বাড়িটি ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি রাজধানীর ৫ রাইসিনা রোডে অবস্থিত যুব কংগ্রেসের দপ্তরটিও খালি করতে হবে।
আকবর রোডের জাতীয় কংগ্রেসের ওই কার্যালয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। একসময় স্যার রেজিনাল্ড ম্যাক্সওয়েল থাকতেন সেখানে। পরবর্তীকালে ছয়ের দশকে মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত দও কিন চি-র বাসভবন হয়ে ওঠে সেটি। দও কিন চি-র মেয়ে, নোবেলজয়ী আং সান সু চি-ও দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন সেখানে।
১৯৭৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়। ভেঙে যায় দল। এমনকি কংগ্রেসকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য কাজ করার মতো জায়গা পর্যন্ত ছিল না ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর অনুগামীদের হাতে। সেই সময় রাজ্যসভার সাংসদ জি বেঙ্কটস্বামী নিজের জন্য বরাদ্দ ওই বাংলো কংগ্রেসকে ছেড়ে দেন।
এরপর ওই বাংলো থেকেই পুনর্জীবন পায় কংগ্রেস। রাজীব গাঁধী, পিভি নরসিংহ রাও এবং মনমোহন সিংহ যখন প্রধানমন্ত্রী, সেই সময়ও ওই বাংলোটিই কংগ্রেসের সদর দপ্তর ছিল। কিন্তু জায়গা কম পড়ে যাওয়ায় গতবছর দলীয় কার্যালয়টিকে ‘ইন্দিরা ভবনে’ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আকবর দপ্তরটি এখনো তাদের দখলেই রয়ে গিয়েছে। সেখানে অব্যাহত রয়েছে দলীয় কাজকর্মও।
এবার সেই দপ্তরটিকে খালি করার নির্দেশ দিল সরকার। বলা হয়েছে, আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে বাংলোটি খালি করে দিতে হবে। কংগ্রেসের তরফে ইতিমধ্যেই আইনি পরামর্শ নেওয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জাতীয় রাজনীতি তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।