আমুদরিয়া নিউজ : তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপ্যাধ্যায়ের লেখা কবিতা ঘিরে এখন তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে কবিতাটি পোস্ট করেন অভিষেক। মুহূর্তে তা সংবাদ শিরোনামের জায়গা কেড়ে নেয়।
রাজ্যে যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন চলছে মানে SIR চালু হয়েছে তা অনেকেরই হেনস্থা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেককে সামান্য কারণে নাম বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অনেকের মৃত্যু হয়েছে আতঙ্কে। আতঙ্কে অন্তত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই রাজ্যেই বলে অভিযোগ। অনেকেই মনে করছেন, অভিষেক এই প্রতিবাদে ওই কবিতাটি লিখেছেন।
পোস্ট করা কবিতার শিরোনাম ‘আমি অস্বীকার করি’ (Ami Aswikar Kori)।
কবিতার পরতে পরতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রযন্ত্র, ক্ষমতা, ইতিহাস ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। কোথাও সংখ্যার হিসাবকে অস্বীকার করে মানুষের মুখের কথা বলেছে কবিতা, কোথাও আবার ‘ক্ষমা’ আর ‘ভুলে যাওয়ার’ সংস্কৃতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কবিতার ভাষায় বার বার ফিরে এসেছে ইতিহাসের সাক্ষ্য—কে দেখেছিল, কে চুপ করে ছিল, আর কে প্রতিবাদ করেনি।
পরিশেষে অভিষেক কবিতার শেষে লিখেছেন, অহঙ্কারী শাসককে মানুষ যে ক্ষমা করে না সেটা সকলকেই মনে রাখতে হবে।
অভিষেকের কবিতা পড়ুন:-
আমি অস্বীকার করি
আমি অস্বীকার করি-এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।
আমি অস্বীকার করি- রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ,
আমি অস্বীকার করি- রক্তের উপর কালির শাসন।
আমাদের বলা হল “নাম দাও”, “কাগজ দেখাও”
আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি, আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি।
তারা বললো “এগুলো যথেষ্ট নয়”
আমরা বললাম তবে বলো কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) এটা সংখ্যা নয়,
এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।
এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ।
রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান,
শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।
যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে
সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে।
নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে
তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে?
যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে
সে আইন; আইন নয়
সে আইন ফাঁসি।
আমি শান্তি চাই না – অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর!
যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর
আমি শুধু একজন মানুষ নই আজ আমি সাক্ষী, আর সাক্ষী
যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে।
আর ইতিহাস সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না।
ইতিহাস মনে রাখে
কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল,
কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল!
যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে
যে শাসক মানুষের কথা শোনে না
যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।