আমুদরিয়া নিউজ : ভাত খেলেই মোটা হয়ে যাওয়া বা ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার ধারণা বহুদিনের, তবে এই প্রচলিত বিশ্বাসকে ভুল প্রমাণ করেছেন Dr. Ashis Mitra। তাঁর মতে, সমস্যা ভাতে নয়, বরং আমরা কীভাবে ভাত খাই সেটাই আসল বিষয়। একই মত পোষণ করেন পুষ্টিবিদ Kavita Devgan। সঠিক নিয়ম মেনে ভাত খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারীও হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভাত খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ‘কুক অ্যান্ড কুল’ পদ্ধতি অনুসরণ করা—অর্থাৎ ভাত রান্না করে ঠান্ডা করে বা ফ্রিজে রেখে পরের দিন খাওয়া। এতে ভাতের স্টার্চ ‘রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ পরিণত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না। এছাড়া ভাত রান্নার সময় সামান্য ঘি মেশালে হজম ধীরে হয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং সুগারের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খাওয়ার ক্রমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন সবজি বা স্যালাড, তারপর প্রোটিন যেমন ডাল, ডিম বা মাংস, এবং সবশেষে ভাত খেলে শরীর ভাত কম পরিমাণে গ্রহণ করে এবং তা সহজে হজম হয়। পাশাপাশি একসঙ্গে বেশি ভাত খাওয়ার বদলে দিনে তুলনামূলক বেশি এবং রাতে কম পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে রাতে ভাত সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ভালো ঘুমেও সহায়তা করতে পারে।
এছাড়াও ফারমেন্টেড ভাত—যেমন ইডলি, দোসা বা পান্তা—গাট হেলথের জন্য বিশেষ উপকারী বলে মনে করা হয়। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা একটাই—ভাত নয়, আমাদের খাদ্যাভ্যাসই আসল চাবিকাঠি। সঠিক নিয়ম মেনে ভাত খেলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।