আমুদরিয়া নিউজ : বাড়িতে পুজোপাঠে কতজন থাকতে পারবে তা নিয়ে কোনো বিধি নিষেধ নেই। তা হলে কোনো বাড়িতে কতজন নামাজ পড়বে সেই সংখ্যাটা ২০ জনে সীমাবদ্ধ করার কোন যুক্তি আছে? এই প্রশ্ন তুলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, যদি এই ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়, তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে জানিয়ে দিল হাইকোর্ট।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলায়। পবিত্র রমজান মাসে মুনাজির খান নামে এক ব্যক্তি নিজের বাড়িতে দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তাঁকে সেখানে নামাজ পড়তে বাধা দেয়। প্রশাসনের তরফে বলা হয় ২০ জনের বেশি একত্রে নামাজ পড়া যাবে না। এই নির্দেশ মানতে নারাজ মুনাজির। এর বিরুদ্ধে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি মামলা করেন।
এই মামলার শুনানির সময়, বিচারপতি শ্রীধরন উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল মণীশ গোয়েলকে প্রশ্ন করেন, “মন্দিরে কি এমন বিধিনিষেধ থাকে? গত বছর প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে কি আপনারা প্রতি ৩ বর্গফুটে মাত্র ২ জনের নিয়ম বেঁধে দিয়েছিলেন? হিন্দুরা যদি তাঁদের বাড়িতে পুজো করেন, তবে কি তাঁদের তা থেকে বিরত করা যাবে?”
বেঞ্চ আরও জানায়, ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা হলে তা গোপনীয়তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের ওপর আঘাত হানতে পারে। শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রশাসনের রয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরে তা প্রয়োগ করা যায় না।