আমুদরিয়া নিউজ : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করতেই নতুন কৌশল নিতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। Donald Trump-এর প্রশাসন এখন সামরিক শক্তি আরও বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অন্যতম হল গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz-এ নিরাপত্তা জোরদার করা, যাতে তেলবাহী জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে। এই জলপথ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের দাবি, শুধু নৌ ও বিমানবাহিনী নয়, প্রয়োজনে ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপ থেকেই হয়ে থাকে। তবে এই ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরান খুব সহজেই ওই অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে, যার ফলে আমদানি নির্ভর দেশগুলির ওপর বাড়ছে চাপ। বিশেষ করে Pakistan-এর অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মাসিক জ্বালানি আমদানি খরচ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি গ্যাসের ঘাটতিও তীব্র আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হয়েছে, স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে চার দিনের কাজের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি খরচ কমাতে মন্ত্রিসভার সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন কমানো, বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ আরোপের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি মজুতও উদ্বেগজনক অবস্থায়—মাত্র কয়েক দিনের জন্য পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা যে সরাসরি অন্যান্য দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে।