আমুদরিয়া নিউজ : আজ পৌষ সংক্রান্তি। বাঙালি জীবনে এক গভীর আবেগ ও ঐতিহ্যের উৎসব। পৌষ সংক্রান্তি বলতেই মনে পড়ে পিঠে-পুলির কথা। নতুন চালের গুঁড়ো, খেজুরের গুড়, নারকেল, দুধ, ক্ষীর দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম পিঠে। পাটিসাপটা, দুধ পুলি, চিতই পিঠে, মালপোয়া—এই তালিকার শেষ নেই।

আজকের দিনে অনেকেই গঙ্গাস্নান করেন, দান-পুণ্য করেন।
কিন্তু আপনি কি জানেন, এই একই দিনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন নামে ও ভিন্ন রীতিতে উৎসব পালন করে? জেনে নিন –
- গুজরাটে এই দিনটি উত্তরায়ণ নামে পরিচিত। এখানে ঘুড়ির মেলা বসে। ছোট-বড় সবাই ঘুড়ি ওড়ায়। তিল, গুড় ও চিনাবাদাম দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া হয়।

- পাঞ্জাবে এই সময় লহরি পালিত হয়। শীত বিদায় ও ফসল কাটার আনন্দে আগুন জ্বালানো হয়। সেই আগুনের চারপাশে মানুষ গান গায়, নাচে এবং তিল, গুড়, চিনাবাদাম আগুনে অর্পণ করে।

- অসমে এই দিনটি মাঘ বিহু বা ভোগালি বিহু নামে পরিচিত। এটি মূলত ভোজনের উৎসব। মানুষ বাঁশ ও খড় দিয়ে ভেলাঘর বানায়। পিঠা, মাছ-মাংস এই উৎসবের প্রধান খাবার।

- তামিলনাড়ুতে মকর সংক্রান্তির সময় চারদিনব্যাপী পোঙ্গল উৎসব পালিত হয়। নতুন চাল, দুধ ও গুড় দিয়ে পোঙ্গল রান্না করে সূর্যদেবকে নিবেদন করা হয়। গরুকে সাজানো, রঙোলি আঁকা এই উৎসবের অঙ্গ।

- কেরালায় এই সময় মকরাভিলাক্কু ও শবরিমালা তীর্থযাত্রার সঙ্গে সংক্রান্তির যোগ রয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত অয়াপ্পা স্বামীর দর্শনে যান।

- মহারাষ্ট্রে মকর সংক্রান্তিতে মানুষ একে অপরকে তিলগুড়-এর মিষ্টি খাওয়ায়।
- অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় এই উৎসব সংক্রান্তি নামে চার দিন ধরে পালিত হয়। গবাদিপশুর পূজা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এই উৎসবের অঙ্গ।
- ওড়িশায় মকর সংক্রান্তিতে মকর চাউলা তৈরি করা হয়। নতুন ধান, কলা, নারকেল, গুড় ও দুধ দিয়ে এই খাবার বানিয়ে দেবতাকে নিবেদন করা হয়।
- বিহার ও উত্তর প্রদেশে এই দিনটি খিচুরি পরব নামে পরিচিত। চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে খিচুরি রান্না করে দান করা হয়। এছাড়া মানুষেরা গঙ্গাস্নান করে থাকেন।
- রাজস্থানেও মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো, তিলের নাড়ু খাওয়া ও দান করার প্রথা আছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ডেও বিভিন্ন লোকাচার ও খাদ্যসংস্কৃতির মাধ্যমে এই দিনটি পালিত হয়।