আমুদরিয়া নিউজ : বিশ্ব চা বাণিজ্যের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইনস্ট্যান্ট চা-সহ বিশ্বে মোট ১,৯৫৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে রফতানি হয়েছে ২৫৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম, যা মোট বিশ্ব রফতানির প্রায় ১৩ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় রফতানি প্রায় ১১ শতাংশ বাড়লেও, উৎপাদনের তুলনায় রফতানিতে ভারতের অংশ এখনও অনেকটাই কম।
বিশ্ব চা উৎপাদনের প্রায় ১৯ শতাংশ ভারতের দখলে থাকলেও রফতানিতে সেই অনুপাত প্রতিফলিত হচ্ছে না। শিল্পমহলের মতে, ভ্যালু অ্যাডিশন, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে লক্ষ্যভিত্তিক প্রবেশ ছাড়া এই ব্যবধান কমানো সম্ভব নয়। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যেও এই কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ২০১০ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ৯৬৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩০৪ মিলিয়ন কিলোগ্রামে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১,২৯০.৫০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম এবং বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০২৬ সালে উৎপাদন ১,৩৫০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম ছাড়াতে পারে বলে অনুমান।
তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল দামে প্রতিফলিত হয়নি। ২০২৫ সালে অল ইন্ডিয়া গড় চা মূল্য কেজি-পিছু প্রায় ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮৬.৯৯ টাকায়। উত্তর ভারতে এই পতন আরও তীব্র, যেখানে গড় দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। ফলে চা শিল্পের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে সস্তা ও ডিউটি-ফ্রি চা আমদানি এবং ভুয়ো ব্র্যান্ডিং ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। নেপাল থেকে আসা চা দার্জিলিং চা হিসেবে বাজারজাত হওয়া এবং কেনিয়া থেকে আমদানি করা চা ‘ইন্ডিয়ান অরিজিন’ নামে পুনরায় রফতানির অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশীয় বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
দেশে মাথাপিছু চা পান এখনও কম—বার্ষিক গড়ে ৮৪০ গ্রাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে পারলে উৎপাদন ও বাজারের ভারসাম্য ফিরতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শিল্পমহল নীতিগত সহায়তা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ইন্ডিয়ান টি’ নামে একক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের দাবি জানিয়েছে।