আমুদরিয়া নিউজ : হিয়ারিংয়ের তলব পেলেন বর্ষীয়ান কবি জয় গোস্বামী। সদ্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন কবি। ডাক্তাররা বিশেষ যত্নের মধ্যেই থাকতে বলেছেন কবিকে। বাইরে বেরোনো তার পক্ষে চিন্তার কারণই বটে। কিন্তু এর মধ্যেই ডাক পড়েছে তাঁর। সোমবার আচমকাই ফোনে জানানো হয়, আগামী ২ জানুয়ারি যাদবপুরে শুনানির জন্য জয় ও তাঁর কন্যাকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। ফলে হতভম্ব তিনি, তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
জয় গোস্বামী, তাঁর স্ত্রী কাবেরী গোস্বামী এবং কন্যা দেবত্রী—তিনজনেই নিয়ম মেনে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। খসড়া তালিকায় নাম ওঠায় তাঁরা নিশ্চিন্ত ছিলেন। এরপর আচমকাই তাঁকে ফোনে তলব করা হয়। জয় গত নভেম্বর মাসেই তিনটি বড় অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন বাড়িতে। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশ রয়েছে। সংক্রমণ এড়াতে আপাতত এক মাস সাবধানে থাকতে হবে তাঁকে। কিন্তু এই শারীরিক সংকটের মাঝেই তাঁর দরজায় কড়া নাড়ল প্রশাসনিক বিড়ম্বনা। জয়ের স্ত্রী কাবেরীদেবী জানান, ২০০৮ সাল থেকেই তাঁরা নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। এমনকি তাঁরা প্রয়াত আত্মীয়দের নথিও জমা দিয়েছিলেন বলে জানান। এরপরেও কমিশন কেন সন্তুষ্ট হতে পারল না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। কবির কন্যা দেবত্রীর কণ্ঠেও ঝরে পড়েছে আক্ষেপ। তাঁর প্রশ্ন, ‘এত বছর এখানে থাকার পর, এত কাজ করার পর এখন আবার প্রমাণপত্র দিতে হবে? এই হেনস্থার মানে কী?’ উল্লেখ্য, কবি দীর্ঘকাল রাসবিহারীতে ভোট দিলেও বর্তমানে তাঁরা সল্টলেকের বাসিন্দা। তবে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত যাদবপুর কেন্দ্রে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়—হিয়ারিং বা শুনানি। কিন্তু এই পর্ব ঘিরেই এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা’র রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই মর্মেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানিতে এবার প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামীর নাম জড়ানোয় তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে বাঙলা সাহিত্যপ্রেমী মানুষের মনে।
অসুস্থ কবি জয় গোস্বামীকে হিয়ারিংয়ে তলব, ক্ষোভ সাহিত্যপ্রেমীদের
Leave a Comment