আমুদরিয়া নিউজ : দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের ভাটরা গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে অভ্র বসাক আজ অসাধারণ সাফল্যের নজির গড়েছে। Indian Space Research Organisation-এর সম্মানজনক ‘যুব বিজ্ঞানী কার্যক্রম’ (YUVIKA 2026)-এ সারা দেশের হাজারো প্রতিযোগীর মধ্যে সে ১৭৬তম স্থান অর্জন করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। অভাব-অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছে অভ্র। তার বাবা আশিস বসাক একজন প্রান্তিক কৃষক—কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালান। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ছেলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও কোনও বাধা হতে দেননি। সেই ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাকেই শক্তি করে অভ্র নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে।
‘যুবিকা’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ানো। এবছর সারা দেশ থেকে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়লেও চূড়ান্তভাবে মাত্র ৪৫৬ জন সুযোগ পেয়েছে—তাদের মধ্যেই অন্যতম অভ্র।
আগামী ১১ থেকে ২২ মে পর্যন্ত হায়দ্রাবাদের National Remote Sensing Centre-এ বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেবে সে। সেখানে দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে মহাকাশ গবেষণার প্রাথমিক ধারণা, রকেট প্রযুক্তি, রিমোট সেন্সিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবে। ছোটবেলা থেকেই আকাশ আর মহাকাশের প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল অভ্রর। তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে রিমোট সেন্সিং ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে উচ্চতর পড়াশোনা ও কাজ করা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অভ্র বরাবরই কৌতূহলী ও মেধাবী—পাঠ্যবইয়ের বাইরে নতুন কিছু শেখার আগ্রহই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অভ্র বসাকের এই সাফল্য শুধু তার নিজের বা পরিবারের গর্ব নয়, বরং দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো প্রান্তিক জেলার অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। প্রমাণ করে দেয়—স্বপ্ন যদি বড় হয় এবং চেষ্টা যদি সৎ হয়, তবে গ্রামের মাটির ঘর থেকেও মহাকাশ ছোঁয়া সম্ভব।