আমুদরিয়া নিউজ : নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে দেখা যায়। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এছাড়া এটি সংক্রমিত খাবারের মাধ্যমে বা সরাসরি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যেও ছড়াতে পারে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। জেনে নিন এই ভাইরাসের ব্যাপারে-
উপসর্গ কী?
নিপা ভাইরাস অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গহীন হয়। তবে অনেকের মধ্যে হালকা থেকে গুরুতর অসুস্থতা, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত ৩ থেকে ১৪ দিন ধরে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি, গলা ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগেন। পরবর্তী পর্যায়ে, কিছু লোকের মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফেলাইটিস হতে পারে, যার লক্ষণগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি, তন্দ্রা এবং খিঁচুনি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিরা ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে যেতে পারেন।
কীভাবে ছড়ায়?
- পশু থেকে মানুষে (জুনোটিক)
- সংক্রমিত বাদুড় বা শূকর, অথবা তাদের শারীরিক তরল (লালা, মূত্র, রক্ত) সরাসরি স্পর্শ করা।
- এছাড়া কাঁচা খেজুরের রস বা সংক্রমিত বাদুড়ের লালা বা মূত্র দ্বারা দূষিত ফল (যেমন খেজুর, আম) খাওয়া।
- মানুষ থেকে মানুষে
- অসুস্থ ব্যক্তির শারীরিক তরলের (শ্বাসতন্ত্রের কণা, লালা, মূত্র, রক্ত) সাথে সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
- রোগীর যত্নের সময় সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে পরিচর্যাকারী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি থাকে।
কীভাবে এড়ানো যায়?
- নিয়মিত সাবান ও জল দিয়ে হাত ধুতে হবে।
- উড়ন্ত বাদুড় বা অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- বাদুড়ের আশ্রয়স্থল রয়েছে এমন এলাকা এড়িয়ে চলুন অথবা বাদুড়ের দ্বারা দূষিত হতে পারে এমন কোনো কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
- বাদুড়ের দ্বারা দূষিত হতে পারে এমন ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- নিপা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রের নিঃসৃত কণার মাধ্যমে ছড়ায়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।
- শূকরের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।