আমুদরিয়া নিউজ : প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে এবার ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠলেন রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বুধবারেই তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে, দলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমি চিন্তাও করতে পারিনি দল আমার প্রতি অবিচার করবে। আজ আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। নিশ্চয়ই কোনও লিডার টাকা এমন দিয়েছে, তাই হয়তো ভালো লিডার পাবে।”
রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে চারবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন খগেশ্বর। কিন্তু ওই আসনে এবার তাঁকে সরিয়ে তৃণমূল প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে স্বপ্না বর্মনকে। দলের এই সিদ্ধান্তে যারপরনাই নারাজ খগেশ্বর। তাঁর অভিযোগ, “যে কোনোদিন তৃণমূল দলটি পর্যন্ত করল না, আজ আমার জায়গায় তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।” এমনকি রাজগঞ্জ আসনটি যে তৃণমূল হারাতে চলেছেন তারও ভবিষ্যতবাণী করেছেন তিনি।
দার্জিলিঙের ৩টি আসন ছেড়ে মঙ্গলবার ২৯১টি আসলে প্রার্থী ঘোষণা করে তৃণমূল। এই তালিকায় জায়গা হয়নি একাধিক বিধায়কের। তার পরিবর্তে দল এবার তরুণ মুখদের উপরেই ভরসা রেখেছে। নতুন ১৪১ জন প্রার্থীকে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে লড়ার সুযোগ দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে অনেক বিধায়কই দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই চুঁচুড়ায় গত তিনবারের জয়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার টিকিট না-পেয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এমনকি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে ক্ষোভ তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মুখেও। রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “ভাবতে পারিনি দল টিকিট দেবে না। তুফানগঞ্জ থেকে দলে টিকিট দেওয়ার কথা বলেছিল, আমি নাটাবাড়ি থেকে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম।”
যদিও প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর মঙ্গলবারই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “যাঁরা টিকিট পাননি, তাঁদের দলের অন্যান্য পদে বা বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে পুষিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি টিকিট না পাওয়া বিধায়কদের হতাশ না হয়ে দলের জন্য কাজ করারও বার্তা দেন।”