অর্ঘ্য বর্মন, আমুদরিয়া নিউজ : একটা ফোন। একটা ফোন আসার পরে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ক্লাস টেনের ছাত্র শুভজিৎ মোদক। ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সন্ধে ৬টার একটু আগে। বাড়ির লোকজন থানায় মিসিং ডায়েরি করেন রবিবার। কিন্তু, খোঁজ মেলেনি। অবশেষে মঙ্গলবার মাটিগাড়ার অদূরে সুকনার জঙ্গল থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হল। রক্তাক্ত সেই দেহটিই নাবালক শুভজিতের।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, শুভজিতকে গলায় বেল্টের ফাঁস দিয়ে মারা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শুভজিতের এক বন্ধুকে জেরা করছে। শুভজিতের সমবয়সী বন্ধুটি খাপরাইল এলাকায় একটি মাংসের দোকানে মুরগি কাটার কাজ করে থাকে। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক টোটো চালক সহ ২ জনকে খুঁজছে।
কেন খুন!
এলাকাবাসীদের কয়েকজনের সন্দেহ, স্থানীয় এক কিশোরীর সঙ্গে শুভজিতের সম্পর্ক ছিল। সেই কিশোরীর সঙ্গে টোটো চালকের সম্পর্ক তৈরি হয়। এর পরে শুভজিতের সঙ্গে গোলমাল বাঁধে বলে অনেকের ধারনা। তার পরেই শুভজিতকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
যে দিন শুভজিত নিখোঁজ হয়, সে দিন এলাকার একটি সিসি ক্যামেরা থেকে ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। তাতে দেখা গিয়েছে, শুভজিত কিছুটা উদভ্রান্ত, উত্তেজিত। ফোনে কথা বলছে। তার পরে হনহন করে সে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখা গিয়েছে।
এর পরে আর খোঁজ মেলেনি।
এর পরে এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। ওই কিশোরীর উপরে ক্ষোভ বাড়ে অনেকের। এদিন দুপুরে দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষোভ বেড়ে যায়। কিশোরীর বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা হলে পুলিশ আয়ত্বে আনে পরিস্থিতি। ময়নাতদন্তের পরে রাতে দেহটি দাহ করা হয়।
এই ঘটনায় মাটিগাড়া এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ত্রিকোণ প্রেমের কারণে কিশোরকে খুন করা হয়েছে নাকি আড়ালে কোনও চক্র রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে। আড়ালে কোনও নারী পাচার চক্রের হাত রয়েছে কি না তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। এলাকার কয়েকজন জানান, কোনও পাচার চক্রের ব্যাপারে কিছু জেনে ফেলার কারণেই খুন হতে হল কি না সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভজিতের মোবাইল কল রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কিশোরীর ফোনের রেকর্ডও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মাটিগাড়া এলাকায় ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। পুলিশের এক কর্তা জানান, ঘটনায় যে বা যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, গ্রেফতার করে সাজার ব্যবস্থা করা হবে।