কিশোর সাহা, আমুদরিয়া নিউজ :
ভোট ঘোষণার আগেই কি দার্জিলিঙে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! সরাসরি পাহাড়ে না গেলেও সুকনা বা লাগোয়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কি কোনও কর্মসূচি হতে পারে ফেব্রুয়ারির শেষে অথবা মার্চের শুরুতে!
হ্যাঁ, এটাই এখন আলোচ্য বিষয়। কারণ, হল দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তের সোশাল মিডিয়ার একটি পোস্ট। তিনি বুধবার নিজের প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সেখানে তিনি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীকে দার্জিলিঙে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আজ। তাতেই প্রধানমন্ত্রীর আসার বিষয়ে আলোচনা গতি পেয়েছে।
মনে রাখবেন, চিঠিতে নয়। ফোনেও নয়। সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে দার্জিলিং পাহাড়ে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। ১১ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দুপুরে তিনি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ তাঁকে সাম্প্রতিক বাজেটের জন্য ধন্যবাদ জানান। রাজু বিস্তের দাবি, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স অঞ্চলকে উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন প্রধাননন্ত্রী। সে জন্য শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেনের কথাও ঘোষণা হয়েছে বলে তিনি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীকে। রাজু বিস্ত জানান, তিনি এলাকার মানুষের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে দার্জিলিং অঞ্চল পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানাব।
সম্প্রতি মালদহ সফর করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই আমন্ত্রণ স্বীকার করে রাজ্যে ভোট ঘোষণার আগেই কি দার্জিলিঙে একবার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, এই প্রশ্নেই চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ। কারণ, অতীতের বেশ কয়েকটি লোকসভা ভোটে দার্জিলিং পাহাড় থেকে বারেবারেই বিজেপি প্রার্থী জিতছেন। সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার পরে রাজু বিস্ত জিতেছেন।
কিন্তু, দার্জিলিঙের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখনও মনে করেন, তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। গোর্খা জনজাতির নানা আকাঙ্খার অধিকাংশ পূরণ হয়নি বলে ভোটের আগে প্রচার শোনা যায়। উপরন্তু, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দার্জিলিঙে নানা উন্নয়ন বোর্ড গড়েছে। সেখানে জিটিএ ভোটে যারা ক্ষমতাসীন হয়েছে সেই অনীত থাপারা তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ। ফলে, বিধানসভা ভোটে কিন্তু লোকসভার ফলে পুনরাবৃত্তি নাও হতে পারে দার্জিলিং পাহাড় ও লাগোয়া সমতলে। উপরন্তু, মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করে ও তার পরে শিক্ষিত বেকারদের মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা এপ্রিল থেকে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মুহূর্তে দার্জিলিং ও লাগোয়া এলাকায় অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল।
এই অবস্থায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের অন্যতম জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ রাজু বিস্তের আমন্ত্রণ স্বীকার করে কবে দার্জিলিঙে আসার ডেট দেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।