আমুদরিয়া নিউজ : রাত তখন সবে ১০টা। শিলিগুড়ি থানা থেকে বড় জোর দেড় কিলোমিটার দূরে এক তরুণী রাস্তায় পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আর্তনাদ করছেন বাঁচা-বাঁচাও। তাঁর স্কুটি ছিটকে গড়াচ্ছে রাস্তার মাঝে। একটি চারচাকার গড়ি তীব্র গতিতে তাঁকে ধাক্কা মেরে পালিয়েছে। সেই আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা ও পথাচারীরা মিলে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
সোমবার রাতে শিলিগুড়ির আলো চৌধুরী মোড়ের ঘটনা। এই ঘটনায় শহরবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। কারণ, সেবক রোডে হিট অ্যান্ড রানের ঘটনার পরে এখনও দুসপ্তাহ কাটেনি। আগের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এক তরুমী এখনও জখম অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে। এবার ফের শিলিগুড়িতে হিট অ্যান্ড রানের ঘটনা ঘটল।
এবারের জখম তরুণীর নাম অঙ্কিতা দাস। স্থানীয় লোকজন, পথচারীরা মিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমান তিনি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওই তরুণীর ভাই অভয় জানান, রাতে তার দিদি অঙ্কিতা দাস কাজ সেরে লেকটাউন হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তীব্র গতিতে থাকা একটি গাড়ি আচমকা ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তরুণীটি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শিলিগুড়ি হাসপাতালে পৌঁছে আহত যুবতীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, এই সময় পুলিশ তাদের কোনো রকম সাহায্য করেনি। উল্টে শিলিগুড়ি থানা ও এনজেপি থানা কোন এলাকার মামলা তা নিয়ে ঠেলাঠেলি হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মদ্যপ অবস্থায় থাকার কারণেই ঘটনাটি ঘটিয়ে সে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তিু, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ভাইরাল হওয়ায় পুলিশ তাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পেরেছে।
প্রশ্ন হল, শহরে এমন বেপরোয়া চালকদের রাশ টানতে কি পুলিশ আরও নজরদারি বাড়াবে না! সেই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত উপযুক্ত সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।