আমুদরিয়া নিউজ : যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব তেল সরবরাহে প্রায় ১০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চাপ সামলাতে এবার ইরানের তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র। আর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায়, ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির জন্য সাময়িক অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) শুক্রবার জানিয়েছেন, এ অনুমতি শুধুমাত্র বর্তমানে জাহাজে বোঝাই থাকা ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ অনুমোদন আগামী ১৯ শে এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দপ্তর।
যুদ্ধের আগে, ইরান থেকে সরবরাহ করা তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে খুব কম দামে এই তেল কিনে নিত বেইজিং। এই সিদ্ধান্তের ফলে চীনও প্রকৃত ‘বাজার দর’ পরিশোধে বাধ্য বাধ্য হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মার্কিন নীতির বড়সড় পরিবর্তন হলেও এর ফলে জ্বালানির দামে বড় কোনও স্বস্তি আসবে না। বরং এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান সরকারের হাতে অর্থ পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেস-এর পরিচালক ডেভিড ট্যানেনবাম বৃহস্পতিবার বলেন, “সহজ কথায় বলতে গেলে, এটা একটা উদ্ভট ব্যাপার। মূলত আমরা ইরানকে তেল বিক্রি করার অনুমতি দিচ্ছি, যা পরবর্তীতে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।”
যদিও এই পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দাম অপরিবর্তিত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।”