আমুদরিয়া নিউজ : প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই ভবানীপুরে জমে উঠল ‘মেগা ফাইট।’ সোমবার এই কেন্দ্রে বিজেপি তাদের প্রার্থী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর, মঙ্গলবার প্রত্যাশা মতোই এই আসনে তৃণমূলপ্রার্থী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা। এরপর থেকেই এই কেন্দ্র নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত ভোটে নন্দীগ্রামে বাজিমাত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে এবার কী হবে ? সেই নিয়েই আলোচনা তুঙ্গে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “প্লিজ, এটা নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। অভিষেক লিস্ট পড়ে দিয়েছে। আমি দাঁড়াচ্ছি আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে। আমার মানুষের প্রতি বিশ্বাস আছে। আমি ৩৬৫ দিন কাজ করি। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজো থেকে শুরু করে, গুরুদোয়ারা থেকে শুরু করে, ইদ থেকে শুরু করে আমি সবকটা দায়িত্ব ৩৬৫ দিন ধরে পালন করি। আমার কাছে এটা একদিনের লড়াই নয়। ৩৬৫ দিন মানুষের সঙ্গে থাকি। কাজেই এটা নিয়ে প্রশ্ন না করাটাই বেটার।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি প্রার্থী করার পরেই এনিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ মমতাকে নিশানা করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার না আসন পরিবর্তন করেন দেখুন। শুভেন্দু ভয় মমতাদির এখনো লেগে আছে। মমতাদি হয়তো আসনটাই পরিবর্তন করে দিতে পারেন দেখুন।”
অন্যদিকে পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাঁর বক্তব্য, “এই যে ভবানীপুরে দাঁড় করিয়েছে, এরজন্য আমি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। শমীক ভট্টাচার্য আগেই একটা সভায় কোথায় বলছিলেন যে, শুভেন্দুবাবু পুরনো কথা এত বেশি বলবেন না। আপনারা সবাই জানেন লোডশেডিংয়ে জেতা একটা লোক, লোডশেডিং করে, জোর করে খালি বলতেন, আমি মমতাকে হারিয়েছি। তার মানে পুরনো কথা যাতে আর বেশি বলতে না পারেন তাইজন্য শমীক ভট্টাচার্য ওঁকে ভবানীপুরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।”
ভবানীপুরের বর্তমান বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই আসনেই এবার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকাতেই ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই আসনেই প্রার্থী হিসাবে নাম রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।
গত ভোটে যেমন আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম। এবারের সকলের চোখ ভবানীপুরের দিকে। ২০২১-এর লড়াই কি এবার ফিরছে ভবানীপুরে? পাঁচ বছর পর আবার কি সেই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য? এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি।