আমুদরিয়া নিউজ : চিনের সঙ্গে ১৯৫৪ সালের Panchsheel Agreement কেন সই করেছিলেন Jawaharlal Nehru— সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ Anil Chauhan। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর উত্তর সীমান্তে স্থিতিশীল কাঠামো গড়তেই নেহরু এই চুক্তির পথে হাঁটেন। চৌহানের বক্তব্য, ১৯৫৪ সালে ভারত তিব্বতকে চিনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দুই দেশ পঞ্চশীল চুক্তি সই করে। ভারতের ধারণা ছিল, এর ফলে উত্তর সীমান্ত কার্যত নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে চিনের মতে, চুক্তিটি মূলত বাণিজ্য সংক্রান্ত— সীমান্ত প্রশ্নে তাদের অবস্থান আলাদা ছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্বে ৮৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ McMahon Line ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সীমারেখা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর হিমালয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। পঞ্চশীল চুক্তিতে শিপকি লা, মানা, নীতি, লিপুলেখ-সহ ছ’টি গিরিপথ দিয়ে বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রার পথ নির্দিষ্ট করা হয়— যাকে ভারত সীমান্ত স্বীকৃতির ভিত্তি বলে মনে করেছিল। চৌহানের মন্তব্য, ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন প্রতিষ্ঠার পর এবং তিব্বত দখলের পর ‘হিমালয় বাফার’ বিলীন হয়ে সরাসরি ভারত-চিন সীমান্ত তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই ছিল দুই দেশের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এখনও স্পর্শকাতর। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে পঞ্চশীল ও সীমান্ত ইতিহাস নিয়ে সিডিএস-এর এই মন্তব্য নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে।