আমুদরিয়া নিউজ : নেপালে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন ভূমিকা শ্রেষ্ঠা। দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন খুশির হাওয়া বইছে নেপালের LGBTQ+ সম্প্রদায়ের মধ্যে।
গত ১৬ মার্চ, নেপালের নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) তরফে ভূমিকা শ্রেষ্ঠাকে দলীয় তালিকা থেকে মনোনীত সাংসদ হিসেবে ঘোষণা করে। এর পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় উদ্যাপন। গত ৫ মার্চের জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন আরএসপি অভাবনীয় সাফল্য পায়। যারই অংশ হিসেবে ভূমিকার এই অন্তর্ভুক্তি বলে জানা গিয়েছে।
৩৭ বছর বয়সী ভূমিকা কাঠমান্ডুর একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে কৈলাশ শ্রেষ্ঠার জন্ম। কিন্তু বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তিনি নিজেকে একজন মেয়ে হিসেবে অনুভব করতে থাকেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর চালচলন, কণ্ঠস্বর ও হাঁটার ভঙ্গির জন্য তাঁকে নানান কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি স্কুলে পড়ার সময়ও সহপাঠীদের কাছ থেকে নানা উৎপীড়ন সহ্য করেছেন। কৈশোরেই বাবার মৃত্যু এবং শিক্ষকদের চাপ সহ্য করতে না পেরে মাধ্যমিক শেষ করার আগেই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন কৈলাশ।
সেই পরিবেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর তিনি ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটির (বিডিএস) সঙ্গে যুক্ত হন। এবং এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর সক্রিয় আন্দোলনের ফলেই ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগান্তকারী রায়ে নেপালে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ পরিচয় আইনত স্বীকৃতি পায়।
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের মর্যাদা ও অধিকারের দাবিতে কাজ করেছেন ভূমিকা। নেপালের ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে এখন তিনিই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন। সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভূমিকা বলেন, “আমি খুবই উচ্ছ্বসিত, তবে একইসঙ্গে দায়িত্বও অনুভব করছি। সংবিধানে আমাদের জন্য অনেক কিছু বলা আছে, কিন্তু সেগুলো এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।” এই বৈষম্য দূর করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখারও অঙ্গীকার করেন।
ভূমিকার এই জয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায় সমর্থকদের মধ্যেও। ‘ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটি’ এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছে।
নেপালের সংসদে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার কণ্ঠ, ইতিহাস রচনা করলেন ভূমিকা
A Historic Win for LGBTQ+ Representation in Nepal
Leave a Comment