আমুদরিয়া নিউজ : রাজ্যজুড়ে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ। এই আবহে এবার রাজ্যজুড়ে জেলা সফরে নামতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার বিকেলে রাজ্যের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন অভিষেক। এরপর ২৮ ডিসেম্বর এসআইআর-কেন্দ্রিক পৃথক বৈঠক করবেন অভিষেক। সেই সুর ধরেই আগামী বছর জানুয়ারির শুরু থেকে জেলাভিত্তিক প্রচার অভিযানে নামছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
দলীয় সূত্রের খবর, টানা এক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি রয়েছে অভিষেকের। নির্দিষ্ট সূচিও ঠিক হয়েছে: ২ জানুয়ারি বারুইপুর, ৩ জানুয়ারি জলপাইগুড়ি, ৪ জানুয়ারি বীরভূম, ৫ জানুয়ারি বিষ্ণুপুর, ৭ জানুয়ারি ইটাহার, ৮ জানুয়ারি মালদহ, ১৩ জানুয়ারি কোচবিহার এবং ১৫ জানুয়ারি কাঁথি।
সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোরে বুথ লেভেল এজেন্টদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন— এসআইআর প্রক্রিয়ায় নজরদারি হতে হবে কড়া, মানুষের পাশে থাকতে হবে নিরলসভাবে। সেই মঞ্চেই ইঙ্গিত ছিল অভিষেকের ভার্চুয়াল বৈঠকের। সেই ইঙ্গিতেই সিলমোহর দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন অভিষেক।
দলীয় নেতাদের দাবি, অভিষেকের কর্মসূচিতে দু’টি দিশা গুরুত্ব পাবে। প্রথমত— সরকারের কাজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ তুলে ধরা হবে মানুষের কাছে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রের ‘অর্থবঞ্চনা’ সত্ত্বেও রাজ্যের তহবিলেই চালু থেকেছে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। গলি থেকে গ্রাম, মহল্লা থেকে শহর — প্রত্যেক এলাকাতেই পৌঁছে দেওয়া হবে উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান। দলের বক্তব্য, “বাঙালির প্রাপ্য আটকে রেখেছে দিল্লি, কিন্তু থেমে থাকেনি বাংলা।” দ্বিতীয়ত— শুরু হচ্ছে সরাসরি ভোট-প্রস্তুতি। স্পষ্ট বার্তা, আর সময় নেই। সামনে তিন-চার মাস চলবে অগ্নিপরীক্ষা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভুলে সংগঠনকে নামতে হবে মাঠে।
নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, “এবার পিকনিক-ফিকনিক হবে না। পিকনিক একেবারে ২০২৬-এর জয়ের পরই।” অর্থাৎ এখন লক্ষ্য একটাই— ছাব্বিশের ভোট। দলের এক নেতার কথায়, “বাংলাকে জমিদারদের হাতে পড়তে দেওয়া যাবে না। এটা সংগঠন বাঁচানোর লড়াই, মানুষের পাশে থাকার লড়াই।” ভার্চুয়াল বৈঠক ও জেলায় জেলায় প্রচার থেকে এ ব্যাপারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।