আমুদরিয়া নিউজ : গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার কোনও চমক ছিল না। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বহুদিন আগে থেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন শুভেন্দু। তিনি বারবার সে কথা প্রকাশ্যে বলেও ছিলেন। শেষমেশ হলও তাই। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনেই শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করল বিজেপি।
গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরেই এক প্রকার পাকা কথা হয়ে গেছিল। সেখানে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনার সময় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দুজনেই আলাদা করে ভবানীপুরের ব্যাপারে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেছিলেন। শুভেন্দু তখনও বলেছিলেন, “উপযুক্ত কাউকে না পেলে আমাকে লড়তে দিন। আমি লড়ব।”
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথাও বলেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, মোদীর কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত নিয়ে শুভেন্দুকে আলাদা করে তা জানিয়েও দেন অমিত শাহ।
গত রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তা দেখেও বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন শুভেন্দু। কারণ, এবার প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট হবে নন্দীগ্রামে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ভবানীপুরে। অর্থাৎ নন্দীগ্রামে ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভবানীপুরে আরও সময় দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, অমিত শাহদের শুভেন্দু বুঝিয়েছেন তিনি ভবানীপুরে প্রার্থী হলে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির যে সেটিংয়ের তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে, তা ভেস্তে যাবে, মানুষ বুঝতে পারবে তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধিতার ব্যাপারে বিজেপি এবার সিরিয়াস। বিজেপির লড়াইয়ের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।
তবে এর মধ্যে শুভেন্দুর নিজেরও অঙ্ক রয়েছে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ভোটে বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু প্রার্থী হওয়ায় তিনি ডিফল্ট প্রোজেক্টেড হয়ে যাবেন বলেই মনে করছেন তারা।