আমুদরিয়া নিউজ : আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডকে মূলত তার কৌশলগত সামরিক অবস্থানের জন্য দখল করতে চাইলেও শুধুমাত্র এটিই একমাত্র কারণ নয়। জেনে নিন গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার আগ্রহের ৭টি মূল কারণ –
মিসাইল প্রতিরক্ষা ও আগাম সতর্কতা: আমেরিকার উত্তর গ্রিনল্যান্ডে এয়ার বেস রয়েছে যা ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার আগাম সতর্কবার্তা দেয়।
“গোল্ডেন ডোম” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: আমেরিকার বর্তমান নীতি অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকাকে রক্ষা করার জন্য একটি বিস্তৃত মিসাইল প্রতিরক্ষার ঢাল বা “গোল্ডেন ডোম” ব্যবস্থার অংশ হিসাবে গ্রিনল্যান্ডকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিরল খনিজ উপাদান : গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টন বিরল খনিজ মজুত আছে বলে অনুমান করা হয়। এই খনিজগুলি আমেরিকার উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে:
নিওডাইমিয়াম এবং প্রাসিওডাইমিয়াম – ইলেকট্রিক গাড়ির মোটর এবং উইন্ড টারবাইনে ব্যবহৃত শক্তিশালী চুম্বকের জন্য জরুরি।
ডিসপ্রোসিয়াম এবং টারবিয়াম – উচ্চ তাপমাত্রায় চুম্বকের কার্যকারিতা বাড়ায়, যা সামরিক সরঞ্জাম এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ল্যান্থানাম এবং সিরিয়াম – ব্যাটারির ইলেক্ট্রোড, ক্যামেরার লেন্স এবং ক্যাটালিটিক কনভার্টারে ব্যবহৃত হয়।
ইট্রিয়াম এবং স্ক্যান্ডিয়াম – মহাকাশ গবেষণা এবং জ্বালানি কোষে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি তৈরির খনিজ – বিরল খনিজ ছাড়াও গ্রিনল্যান্ডে প্রচুর পরিমাণে লিথিয়াম, গ্রাফাইট, কোবাল্ট এবং নিকেল রয়েছে, যা আমেরিকার ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে অপরিহার্য।
জ্বালানি: এই দ্বীপে পরিমাণে অনাবিষ্কৃত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। এছাড়াও ইউরেনিয়াম খনি থেকে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
চিনের খনিজ একাধিপত্য ভাঙা: আমেরিকা বিরল খনিজ সরবরাহের জন্য চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। গ্রিনল্যান্ডের বিপুল খনিজসম্পদ এই নির্ভরতা কমাতে পারে।
GIUK গ্যাপ নিয়ন্ত্রণ: গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড-আইসল্যান্ড-ইউকে (GIUK) গ্যাপের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়া এবং চিনের নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এই নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন আর্কটিক শিপিং রুট: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে, যার ফলে নতুন বাণিজ্যিক নৌপথ, যেমন নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ তৈরি হচ্ছে। পানামা খালের চেয়ে ৭,০০০ কিলোমিটার ছোট এই বাণিজ্য পথ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে আমেরিকা আগ্রহী।
আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ কেন চায়? জেনে নিন কারণগুলি
Leave a Comment